মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহালছড়িতে বিশেষ অভিযান; ইউপিডিএফ (মূল) এর ৩ জন সশস্ত্র চাঁদাবাজ গ্রেফতার মানিকছড়িতে ‘‘আলোকিত মানিকছড়ি” জনকল্যাণ সংস্থার ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের আভাস শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পার্বত্য মন্ত্রীর পদত্যাগ রুমায় ঝড়ে বৃদ্ধের ঘরে গাছের ডাল, অল্পের জন্য রক্ষা কর্ণফুলীতে নৌকাডুবি: ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা ৪ কিশোরকে পুলিশের সাহসিকতা সম্মাননা উচ্চশিক্ষায় আগ্রহ বাড়াতে ঈদগাঁওয়ে কর্মশালা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা রামগড়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রাঙামাটিতে ভূষণছড়া হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শোকসভা রাজস্থলীতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে হেডম্যান-কারবারি সম্মেলন পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালার মধ্য বোয়ালখালীতে কালভার্ট ধস, দুর্ভোগে ২০০ পরিবার প্রত্যন্ত সিন্দুকছড়ি থেকে বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের উড়ান: পিএইচডি অর্জন করলেন ড. সজীব ত্রিপুরা স্বেচ্ছাশ্রমে কবরস্থান সংস্কারে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রামুতে ‘প্রজন্ম’ ৯৫-এর উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও ক্রেস্ট প্রদান রাজস্থলীতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন স্মৃতির আবেগে মুখর কাচালং স্কুলের এসএসসি ’৯১ ব্যাচের দ্বিতীয় পুনর্মিলনী
Notice :

প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের আভাস

Reporter Name

অনলাইন ডেস্ক।।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার আকার আরও বাড়তে পারে বলে জোর আলোচনা চলছে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বিন্যাস করে একক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে দলীয় ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন বিএনপির কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা এবং টেকনোক্র‍্যাট কোটায় আসতে পারেন একাধিক ব্যক্তি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং জনবান্ধব শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঈদুল আজহার পর এবং বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হতে পারে বলে বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

এর মধ্যেই সোমবার (১ জুন) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগপত্র গ্রহণের অনুরোধ জানান। এ ঘটনার পর সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বেশি, সেখানে নতুন নেতৃত্ব আনার পাশাপাশি একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব একটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

আলোচনায় যেসব জ্যেষ্ঠ নেতা
দলীয় সূত্র জানায়, নতুন মন্ত্রিসভায় কয়েকজন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিক এবং তরুণ মুখ অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের বিষয়েও আলোচনা চলছে। তিনজন মন্ত্রীর দায়িত্ব কমানো এবং একটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও কাজের ধীরগতির বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

দলীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা একজন মন্ত্রী এবং দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আরেক মন্ত্রীর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় তাদের দায়িত্ব পরিবর্তনের আলোচনা চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেও একজনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে, বর্তমান মন্ত্রিসভায় নোয়াখালী অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ফারুক সেনবাগ থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

টেকনোক্র‍্যাট কোটায় যাদের নাম
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, টেকনোক্র‍্যাট কোটায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং হাবিবুন নবী খান সোহেলের নাম আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

বর্তমান হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, পাবনা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও দোহার-নবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক এবং কুমিল্লার সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নামও আলোচনায় এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে খুলনার সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, ফরিদপুরের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং সিরাজগঞ্জের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিমের মধ্য থেকে কেউ দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানা গেছে।

টেকনোক্র‍্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেলের নামও আলোচনায় রয়েছে। দলীয় সূত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তনের আভাস
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র বলছে, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীকে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

একই সঙ্গে সংসদ উপনেতা হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আব্দুল মঈন খানকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদেও আরও দুজন সদস্য যুক্ত হতে পারেন বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নাম কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এটি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি প্রয়োজন মনে করলে বর্তমান সদস্য নিয়েই সরকার পরিচালনা করবেন, আবার প্রয়োজনে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণও করতে পারেন।”

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, “এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি। এটি দলের চেয়ারম্যান ও সরকারপ্রধান তারেক রহমানের এখতিয়ার। তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করবেন।”

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। তবে কোনো উপমন্ত্রী নেই। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমকে স্পিকার এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামালকে ডেপুটি স্পিকার করা হয়েছে। পরে আহমেদ আজম খানকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং ব্যারিস্টার মীর হেলালকে ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *