
আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে নিহত তিন পাহাড়ি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে নিহতদের পরিবারকে নগদ অর্থ, কম্বল ও খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন ২০২৬) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে এসব সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। সহায়তার আওতায় প্রতিটি পরিবারকে চারটি করে কম্বল, তিন হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং চাল, মসুর ডালসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়।
সহায়তা বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন এনামুল হাসান, আবদুল্লাহ আল মামুন এবং ওসাই মং মার্মা ছোটনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়া এলাকায় সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে মাইন বিস্ফোরণে তিন পাহাড়ি বাসিন্দা নিহত হন। নিহতরা হলেন লেয়ারা (৪১), অংকেমং (৫০) এবং চিংকা অং (৪০)। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবিক সংকটে পড়ে।
নিহতদের স্বজনরা জানান, পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের এই সহায়তা তাদের কিছুটা সাহস ও মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।
সহায়তা গ্রহণ শেষে পরিবারের সদস্যরা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, কঠিন সময়ে প্রশাসনের এই সহযোগিতা তাদের জন্য স্বস্তি ও সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে এসেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন, মাইন বিস্ফোরণে নিহত পরিবারগুলোর ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয়দের মতে, শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সরকারের মানবিক দায়িত্বশীলতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।