April 17, 2026, 12:30 pm
শিরোনাম :
রাঙামাটিতে যুবনেতা ধর্মশিং চাকমা হত্যা: ইউপিডিএফ’র নিন্দা ও প্রতিবাদ রাঙামাটিতে যুবনেতা ধর্মশিং চাকমা গুলিতে নিহত, নিন্দা ও প্রতিবাদ ডিওয়াইএফের নাইল্যাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক তিন ঘটনায় তিন নারী গ্রেফতার সীমান্তে ৩৪ বিজিবির মানবিক উদ্যোগ: ঘুমধুমে চিকিৎসা সেবা, অনুদান ও উপহার বিতরণ দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর সহায়তা কার্যক্রম: বদলাচ্ছে অসহায়দের জীবন লামায় মাতামুহুরী নদীতে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু রাজস্থলী তাইতংপাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নই সরকারের অগ্রাধিকার: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল পাহাড়ের দুর্গম জনপদ সিন্দুকছড়ি সেনাবাহিনী জোনের মানবিক স্বাস্থ্যসেবা; বিনামূল্যে চিকিৎসা পেল দেড় সহস্রাধিক মানুষ মাটিরাঙ্গার আমতলীতে বর্ণিল আয়োজনে বুইসুক উৎসব পালিত মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স…. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান মারমা সম্প্রদায়ের রিঃ লং পোয়েঃ আকাজা, পাইংজারা ও মঙংছুং প্রদর্শনী দেখলেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার গরু ও ইয়াবা পাচারে বাধা: নাইক্ষ্যংছড়িতে যুবককে পিটিয়ে রক্তাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাবাডি ও বলি খেলা অনুষ্ঠিত নিজেই বিধ্বস্ত ২০ হাজার মানুষের চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রটি
Notice :

বন্যপ্রাণী রক্ষায় মানবিক দৃষ্টান্ত নবদ্বীপ চাকমার

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।

খাগড়াছড়িতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নবদ্বীপ চাকমা। দীর্ঘদিন পরম মমতা ও দায়িত্ববোধে লালন-পালন করা একটি বিলুপ্তপ্রায় এশিয়ান ব্ল্যাক বিয়ার, ছয়টি হরিণ ও দুইটি বানর স্বেচ্ছায় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বন্যপ্রাণী তুলে দেওয়া হয়। এ সময় ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রতিনিধি নূর জাহান উপস্থিত ছিলেন। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও জেলা বিএনপির নেতা অনিমেষ চাকমার উদ্যোগে পুরো হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

নবদ্বীপ চাকমা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় বেড়ে ওঠেন। একসময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে স্থানীয় ঠিকাদারি পেশায় যুক্ত। তবে পরিচয়ের বাইরে তাঁর মানবিক চেতনা ও প্রকৃতিপ্রেমই এই উদ্যোগের মূল প্রেরণা। ছোটবেলা থেকেই তিনি হাটে-বাজারে হরিণের মাংস বিক্রি ও নির্বিচারে বন ও বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করে আসছেন।

বুদ্ধের নীতিবাক্য ‘জীবহত্যা মহাপাপ’—এই দর্শনকে ধারণ করে আহত ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষায় এগিয়ে আসেন তিনি। নবদ্বীপ চাকমা জানান, আহত অবস্থায় বন থেকে ভালুকটিকে উদ্ধার করেছিলেন। অসুস্থ বানর দু’টিরও তিনি চিকিৎসা ও পরিচর্যা করেন। আর হরিণগুলো ছোট বয়স থেকেই নিজ দায়িত্বে লালন-পালন করে আসছিলেন।

তিনি বলেন, “অনেক দিন ধরেই প্রাণীগুলোকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে চাচ্ছিলাম। উপযুক্ত মাধ্যম না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছিল না। অনিমেষ চাকমার সহযোগিতায় অবশেষে নিরাপদ ঠিকানা নিশ্চিত করতে পেরেছি—এতে সত্যিই ভালো লাগছে।”

খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, “বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নবদ্বীপ চাকমার মতো সচেতন মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।” তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো দ্রুত ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে স্থানান্তর করে নিরাপদ পরিবেশে রাখা হবে।

প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ যখন নানা সংকটে, তখন নবদ্বীপ চাকমার এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ মানবতা, দায়িত্ববোধ ও প্রকৃতিপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।