
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ১০ দিনের ছুটিকে ঘিরে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে পাহাড়ি এই পর্যটন স্পট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজেকের শতাধিক রিসোর্ট ও কটেজ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। ফলে অনেক পর্যটক রুম না পেয়ে দিন শেষে খাগড়াছড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রস্তুতি।
সাজেক কটেজ ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, ঈদ উপলক্ষে আগে থেকেই সব রিসোর্ট ও কটেজ শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। তিনি পর্যটকদের ভোগান্তি এড়াতে অগ্রিম বুকিং নিশ্চিত করে সাজেক ভ্রমণের পরামর্শ দেন।

তবে পর্যটকদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, ঈদের সময় রুম ভাড়া ও যানবাহনের ভাড়া তুলনামূলক বেশি। কোনো কোনো তাবুর ভাড়াও ২ থেকে ৩ হাজার টাকায় নেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে টহল জোরদার করেছে। সাজেক টুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক নিশাত রায় জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ঈদের এই পর্যটক সমাগমে আশাবাদী। সাজেকের একটি রেস্টুরেন্টের মালিক জহির খান বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে হাজারো পর্যটকের আগমনে সাজেকের পর্যটন খাতে প্রাণ ফিরেছে। টানা ছুটিতে ব্যবসায়ীরা বাড়তি আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন এবং আগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে সাজেকের পর্যটন শিল্প আরও বিকশিত হবে।