
মো. জয়নাল আবেদীন, আলীকদম
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে জরুরী স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জীবনহানির ঝুঁকি হ্রাস করতে এক বিশেষ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) সকালে আলীকদম সেনা জোনের ব্যবস্থাপনায় এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ ‘জরুরি চিকিৎসা সেবা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
সেবা যখন দোরগোড়ায় ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত পাড়াগুলো থেকে তাৎক্ষণিক মূল হাসপাতালে পৌঁছানো অনেক ক্ষেত্রে দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। এই সংকট মোকাবিলায় বান্দরবান জেলাধীন আলীকদম উপজেলার ২২টি পাড়া থেকে ২৭ জন উদ্যমী প্রশিক্ষণার্থীকে (১৯ জন পুরুষ ও ০৮ জন নারী) নির্বাচন করা হয়েছে। তাদের এমনভাবে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে যেন তারা নিজ নিজ এলাকায় যেকোনো আকস্মিক দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পারেন।
প্রশিক্ষণের মূল বিষয়বস্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এই কোর্সে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তীব্র রক্তক্ষরণ বন্ধ ও জখম ব্যবস্থাপনা। হাড় ভাঙা ও শারীরিক আঘাতের জরুরি প্রাথমিক পরিচর্যা। সাপের কামড়, অগ্নিকাণ্ড ও পানিতে ডোবা রোগীদের জীবন রক্ষাকারী পদক্ষেপ। অচেতন রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা এবং সঠিক উপায়ে হাসপাতালে স্থানান্তর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ আবুল হাসান পলাশ পিএসসি। আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মনজুর আলম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ হানিফ।
বক্তারা বলেন, “দুর্গম এলাকায় যেকোনো বড় দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিট বা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ জীবন রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে যে সক্ষমতা তৈরি হবে, তা পাহাড়ে একটি শক্তিশালী মানবিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলবে। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ কেবল একটি প্রশিক্ষণ নয়, বরং এটি দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য-নিরাপত্তার একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ।
মানবিক অঙ্গীকারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আলীকদম সেনা জোনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ স্থানীয় জনপদে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে দুর্গম জনপদের চিকিৎসাসেবার ঘাটতি পূরণে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবেন।