
শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের শফিপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মেয়েকে নিয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে একটি পোস্ট দেন রাসেল মাহমুদ। পরে পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে।
এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর কাপ্তাই জোন ৩৮ বীর-এর যৌথ সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে রাসেল মাহমুদ তার ফেসবুক পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং একটি ভিডিও বার্তায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিবারকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহারের জন্য তিনি দুঃখিত ও লজ্জিত। রাজনৈতিক সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি ‘অতিরঞ্জিত’ ভাষা ব্যবহার করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি আরও দাবি করেন, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বাবা মৃত খলিলুর রহমান একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ছিলেন এবং তিনি নিজেও অতীতে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রাসেল মাহমুদ ২০১৮-১৯ সালে বাঙ্গালহালিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।
তবে রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাষ্টার খলিলুর রহমান শেখ বলেন, “বর্তমানে তিনি বিএনপির কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।”
চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকের আহম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাসেল মাহমুদকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য তাকে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।