March 10, 2026, 12:56 pm
শিরোনাম :
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক মহালছড়ির কৃষকদের বীজ ও সার বিতরণ খাগড়াছড়িতে ভাতাভোগী আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের ঈদ উপহার বিতরণ রাজস্থলীতে দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা লক্ষীছড়িতে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সেনাবাহিনীর ইফতার সামগ্রী বিতরণ লামায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে মহড়া ও আলোচনা সভা গণহত্যা দিবস ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাজস্থলীতে প্রস্তুতি সভা ফ্যামিলি কার্ডে পরিবারের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন হবে: পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান কাপ্তাইয়ে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত মাটিরাঙ্গায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে ইউএনডিপি ও বাংলাদেশ সরকারের অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় লামায় ১০৮ পিস ইয়াবাসহ এক ব্যক্তি আটক আলীকদমে পিআইওর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান রাজস্থলীতে যুবশক্তির ভূমিকা শীর্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত আলীকলম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) এর মানবিক উদ্যোগ রাজস্থলীতে পিডিবিএফের নেতৃত্ব বিকাশ ও সামাজিক উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু
Notice :

পাহাড়ে ‘লাল সোনা’র হাতছানি: বিটরুট চাষে নতুন সম্ভাবনা

মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি।।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার মাস্টারপাড়া গ্রামের কৃষক ইছমাইল হোসেন প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে বিটরুট চাষ করে এলাকায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। মাত্র ১০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা এই চাষ ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক ফল দেখাচ্ছে, যা পাহাড়ি অঞ্চলে উচ্চমূল্যের সবজি চাষের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।

ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)-এর ‘স্পেশাল প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট (এগ্রিকালচার)’ প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ ও পুষ্টিকর সবজি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইছমাইল হোসেনের জমিতে ‘লাল-২’ জাতের হাইব্রিড বিটরুটের একটি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়। এতে তিনি প্রায় ২ হাজার ৫০০টি চারা রোপণ করেন।

ইছমাইল হোসেন জানান, আইডিএফ-এর আর্থিক সহায়তা ও নিয়মিত কারিগরি পরামর্শে তিনি এই নতুন উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত হন। বর্তমানে গাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যকর অবস্থা দেখে তিনি ভালো ফলনের আশা করছেন। আবহাওয়া ও বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এই চাষ থেকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা পাওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

বিটরুটকে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ‘সুপারফুড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর গাঢ় লাল রঙ, আয়রন ও ফাইবারসহ বিভিন্ন ভিটামিনসমৃদ্ধ উপাদানের কারণে বাজারে চাহিদা তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে সালাদ ও জুস হিসেবে এর ব্যবহার বাড়ছে। ‘লাল-২’ জাতটি উচ্চ ফলনশীল ও রোগবালাই প্রতিরোধী হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

এই উদ্যোগে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। আইডিএফ-এর সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিঠুন দাশ নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ প্রদান করছেন। তিনি বলেন, সুনিষ্কাশিত ও ঝুরঝুরে উর্বর মাটি এবং তুলনামূলক শীতল আবহাওয়া বিটরুট চাষের জন্য উপযোগী। মাটিরাঙ্গা অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া এই ফসলের জন্য অনুকূল হওয়ায় ফলন প্রত্যাশিত পর্যায়ে রয়েছে।

ইছমাইলের সাফল্য দেখে আশপাশের গ্রামের কৃষকরাও আগ্রহী হচ্ছেন। চরপাড়ার কৃষক হানিফ মিয়া ইতোমধ্যে নিজ জমিতে বিটরুট চাষ শুরু করেছেন। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, অল্প জমিতে অধিক মুনাফার সম্ভাবনার কারণে পাহাড়ি এলাকায় বিটরুট একটি কার্যকর বিকল্প ফসল হতে পারে।

এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিটরুট একটি পুষ্টিকর ও উচ্চমূল্যের সবজি এবং এখানকার মাটি ও আবহাওয়া এর জন্য উপযোগী। এ ধরনের উদ্ভাবনী চাষ পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষুদ্র কৃষকদের আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। কৃষি বিভাগ এ ধরনের উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিটরুটসহ উচ্চমূল্যের সবজি চাষের প্রসার ঘটলে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষিতে বৈচিত্র্য আসবে এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।