বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আগ্রহী: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল পাহাড়ে কৃষি বিপ্লব ঘটানোর তাগিদ- পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু আশিকা ডেভেলপমেন্ট এ্যাসোসিয়েটস এর উদ্যোগে প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মহালছড়ি উপজেলায় জাবারং কল্যান সমিতির আয়োজনে প্রকল্প অবহিতকরণ ও মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়িতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ ও র‌্যালী ১১টি মাদক মামলার এজাহারনামীয় আসামি নয়ন চৌধুরী ৩৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার গুইমারায় সিন্দুকছড়ি জোনের মাসিক নিরাপত্তা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাতামুহুরীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীনের পথে শতবর্ষী মেরাখোলা কবরস্থান বিলাইছড়িতে বিনামূল্যে ৮ হাজার ৪০০ চারা বিতরণ কাপ্তাইয়ে গ্রাম পুলিশের মাঝে বাইসাইকেল ও পোশাক সামগ্রী বিতরণ ঘর নেই, স্বজন নেই—জরাজীর্ণ যাত্রী ছাউনিতে ৭৫ বছরের অসুস্থ জহুরা পেরাছড়ায় কমিউনিটি এডুকেশন ওয়াচ গ্রুপের ত্রৈমাসিক সভা পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে রাজস্থলীর ‘বড় ঝর্ণা’ খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ে বেকারদের জন্য বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ নতুন দায়িত্ব পেয়েই দীঘিনালায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্যবৃন্দরা ঈদগাঁওতে মাদকের সরঞ্জামসহ ১২ মাদকসেবী আটক

সরিষার হলুদে স্বপ্ন বুনছেন মাটিরাঙ্গার কৃষকরা

মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি।।

শীতের রোদে পাহাড়ঘেরা মাটিরাঙ্গার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন হলুদ সরিষা ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য। চোখ জুড়ানো এই দৃশ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কৃষকদের আশার রঙ। মাঠে মাঠে সরিষার ফুল, মৌমাছির গুঞ্জন আর মিষ্টি ঘ্রাণে মুখরিত পুরো এলাকা যেন সম্ভাবনার নতুন গল্প বলছে।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌর এলাকার চড়পাড়া, তাইন্দং, তবলছড়ি এবং গোমতী ইউনিয়নের বান্দরছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় যতদূর চোখ যায়, ততদূর বিস্তৃত সরিষার হলুদ মাঠ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অনেক দর্শনার্থী ছুটে আসছেন এসব এলাকায়, কেউ কেউ ক্যামেরাবন্দি করছেন এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

ভোজ্যতেলের বাজারদর বাড়ায় সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন পাহাড়ি কৃষকরা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এবছর সরিষা আবাদে আগ্রহ বেড়েছে। কৃষকদের আশা, চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হলে তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়বে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আমন ধান কাটার পর জমি পতিত না রেখে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় সরিষার আবাদি জমি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষি বিভাগের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ২৭০ জন কৃষকের মাঝে জনপ্রতি ১ কেজি করে বারি-সরিষা-১৪ জাতের বীজ, সঙ্গে ডিএপি ও এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২৫ জন কৃষকের মাঝে বিনা-১১ ও বিনা-৯ জাতের সরিষার বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।

কৃষক মনির হোসেন বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে ভালো ফুল এসেছে। দানার অবস্থাও আশাব্যঞ্জক। সব ঠিক থাকলে ফলন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে।”

কৃষক জামাল হোসেন জানান, পাহাড়ি জমিতে সরিষা চাষ সহজ ও লাভজনক। রোগবালাই কম থাকায় ফলন নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সবুজ আলী বলেন, “চলতি মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল বারি-সরিষা-১৪, বিনা-১১ ও বিনা-৯ জাতের বীজ চাষ করা হয়েছে। সরকারিভাবে উন্নত বীজ ও সার বিতরণ করায় কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবার রেকর্ড পরিমাণ সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, এর ফলে স্থানীয় ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *