
শীতের রোদে পাহাড়ঘেরা মাটিরাঙ্গার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন হলুদ সরিষা ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য। চোখ জুড়ানো এই দৃশ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কৃষকদের আশার রঙ। মাঠে মাঠে সরিষার ফুল, মৌমাছির গুঞ্জন আর মিষ্টি ঘ্রাণে মুখরিত পুরো এলাকা যেন সম্ভাবনার নতুন গল্প বলছে।
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌর এলাকার চড়পাড়া, তাইন্দং, তবলছড়ি এবং গোমতী ইউনিয়নের বান্দরছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় যতদূর চোখ যায়, ততদূর বিস্তৃত সরিষার হলুদ মাঠ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অনেক দর্শনার্থী ছুটে আসছেন এসব এলাকায়, কেউ কেউ ক্যামেরাবন্দি করছেন এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
ভোজ্যতেলের বাজারদর বাড়ায় সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন পাহাড়ি কৃষকরা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এবছর সরিষা আবাদে আগ্রহ বেড়েছে। কৃষকদের আশা, চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হলে তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়বে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আমন ধান কাটার পর জমি পতিত না রেখে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় সরিষার আবাদি জমি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃষি বিভাগের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ২৭০ জন কৃষকের মাঝে জনপ্রতি ১ কেজি করে বারি-সরিষা-১৪ জাতের বীজ, সঙ্গে ডিএপি ও এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২৫ জন কৃষকের মাঝে বিনা-১১ ও বিনা-৯ জাতের সরিষার বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।
কৃষক মনির হোসেন বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে ভালো ফুল এসেছে। দানার অবস্থাও আশাব্যঞ্জক। সব ঠিক থাকলে ফলন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে।”
কৃষক জামাল হোসেন জানান, পাহাড়ি জমিতে সরিষা চাষ সহজ ও লাভজনক। রোগবালাই কম থাকায় ফলন নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সবুজ আলী বলেন, “চলতি মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল বারি-সরিষা-১৪, বিনা-১১ ও বিনা-৯ জাতের বীজ চাষ করা হয়েছে। সরকারিভাবে উন্নত বীজ ও সার বিতরণ করায় কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবার রেকর্ড পরিমাণ সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এর ফলে স্থানীয় ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।