
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলায় অবৈধভাবে সেগুন কাঠ পাচারের সময় একটি পিকআপ গাড়ি জব্দ করেছে বনবিভাগ ও পুলিশের যৌথ টহল দল। বাংলাদেশ বন আইন, ১৯২৭ (সংশোধিত) ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় বনসম্পদ ধ্বংস ও পাচারের অভিযোগে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সেগুন কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লামা উপজেলার ৫ নম্বর সরই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বুরাবুইন্যা পাড়া এলাকায় এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডলুছড়ি বনবিভাগ ও কেয়াজুপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা সরই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পূর্ব পাশে একটি লিচু বাগান এলাকায় বিশেষ অভিযান চালান।
অভিযানকালে কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনপত্র, পরিবহন ছাড়পত্র কিংবা মালিকানার বৈধ দলিল ছাড়াই বনজ সম্পদ পরিবহনরত অবস্থায় একটি মালিকবিহীন পিকআপ গাড়ি আটক করা হয়। পরবর্তীতে গাড়িটি তল্লাশি করে অবৈধভাবে কর্তিত ২২ ফুট সেগুন কাঠ উদ্ধার করা হয়।
বনবিভাগের প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে, উদ্ধারকৃত সেগুন কাঠগুলো সংরক্ষিত বনাঞ্চল বা রাষ্ট্রীয় বনভূমি থেকে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল। জব্দকৃত কাঠ ও পিকআপ গাড়িটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বলে প্রাথমিকভাবে নিরূপণ করা হয়েছে।
অভিযানের সময় গাড়িটির কোনো চালক, মালিক বা সংশ্লিষ্ট কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা অপরাধ সংঘটনের পর পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত কাঠের বৈধ উৎস সংক্রান্ত কোনো দলিলাদি উপস্থাপন করতে না পারায় বাংলাদেশ বন আইন অনুযায়ী কাঠসহ পিকআপ গাড়িটি জব্দ করে ডলুছড়ি রেঞ্জের অধীন সরই বিট কর্মকর্তার কার্যালয়ে হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডলুছড়ি রেঞ্জের সরই বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল করিম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি একটি সংঘবদ্ধ বন অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ বন আইন, ১৯২৭ (সংশোধিত) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।