
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে হঠাৎ করেই পেট্রোল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও পেট্রোল-অকটেন চালিত যানবাহনের চালকরা। জ্বালানি সংগ্রহ করতে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটতে দেখা যাচ্ছে অনেক চালককে।
রোববার (৮ মার্চ) সকাল থেকে বান্দরবান সদরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে এমন চিত্র দেখা যায়। কয়েকটি পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি। পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় অনেক পাম্পে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ১০০ টাকার অকটেন দেওয়া হচ্ছে, যা এক লিটারেরও কম।
জ্বালানির অভাবে খুচরা তেল বিক্রেতাদের অধিকাংশ দোকানও বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন অকটেন ও পেট্রোলচালিত যানবাহনের চালকেরা।
স্থানীয় সিএনজিচালক মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ভাড়ায় সিএনজি চালিয়েই তার সংসার চলে। শনিবার একটি পাম্প থেকে ২০০ টাকার অকটেন নিয়েছিলেন। কিন্তু রোববার কোনো পাম্পেই তেল না পাওয়ায় যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না। এতে সংসার চালানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মোটরসাইকেলচালক রাইসুল ইসলাম বলেন, জরুরি প্রয়োজনে তাকে পার্শ্ববর্তী কেরানীহাট যেতে হচ্ছে, যার দূরত্ব প্রায় ২১ কিলোমিটার। কিন্তু তিনটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে তিনি মাত্র ১০০ টাকার অকটেন পেয়েছেন, যা দিয়ে যাওয়া-আসা করা কঠিন হবে।
বান্দরবান শহরের উজমা পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার জুয়েল দাশ জানান, শনিবার পর্যন্ত পাম্পে যে পরিমাণ তেল মজুদ ছিল তা গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের কাছে কোনো অকটেন বা পেট্রোল নেই। তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপের কাছে একাধিকবার চাহিদা জানানো হলেও এখনো সরবরাহ পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, সরকারিভাবে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট ঘোষণা করা হয়নি। কেউ মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না। মজুদের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চালক ও স্থানীয়দের আশা, দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বর্তমান ভোগান্তি কমবে।