
হাবীবুল্লাহ মিসবাহ, রাজস্থলী।।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার দুর্গম উপজেলা রাজস্থলীর প্রায় ২৫ হাজার মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সীমান্তবর্তী বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি উপজেলার অনেক রোগীকেও এই হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে হাসপাতালটির একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ধরে বিকলপ্রায় অবস্থায় থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের জেলা শহর রাঙামাটি কিংবা চট্টগ্রামে পাঠাতে হাসপাতালটিতে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। কিন্তু সেটিও প্রায় সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়ে থাকে। বর্তমানে গাড়িটির চাকা নষ্ট থাকায় সেটি কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে।
ফলে প্রসব বেদনায় আক্রান্ত গর্ভবতী নারী, দুর্ঘটনায় আহত কিংবা আশঙ্কাজনক রোগীদের বাধ্য হয়ে সিএনজি বা মাহিন্দ্রার মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানীয় যানবাহনে করে দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক চাঅং মারমার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও মদ্যপ অবস্থায় কর্মস্থলে থাকার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, জরুরি প্রয়োজনে অনেক সময় চালককে পাওয়া যায় না। এছাড়া তিনি প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী জানান, চালকের বিরুদ্ধে এর আগেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে চালক চাঅং মারমার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান অ্যাম্বুলেন্সের যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বিকল গাড়িটি মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে বিআরটিএ’র অনুমোদন নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। একটি গাড়ি রোগী নিয়ে চট্টগ্রামে গেলে পুরো উপজেলা জরুরি পরিবহন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। তাই দ্রুত নতুন অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ এবং বিদ্যমান সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।