
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব। প্রকল্পটি চালু হলে স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ রোগমুক্ত ও মানসম্মত ফলদ, বনজ ও ফুলের চারা উৎপাদন সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের টিস্যু কালচার ল্যাব স্থাপন প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে পাঁচটি ল্যাব নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে বান্দরবানে।
হর্টিকালচার সেন্টার সূত্র জানায়, প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের নিচতলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় স্থাপন করা হবে আন্তর্জাতিক মানের টিস্যু কালচার ল্যাব। ভবনের একটি অংশে কৃষকদের প্রশিক্ষণের জন্য আধুনিক হলরুমও থাকবে।
প্রচলিত বীজ, কলমসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় কৃষকরা প্রায়ই চাহিদামতো চারা পান না। টিস্যু কালচার প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাতৃগাছের টিস্যু থেকে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ রোগমুক্ত চারা উৎপাদন সম্ভব হবে, যা কৃষকদের জন্য চারা সহজলভ্য করবে এবং খরচও কমাবে।
এ বিষয়ে রাজবিলা ইউনিয়নের কৃষক উমংসিং মারমা বলেন, “এই ল্যাবে আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন হলে স্বল্পমূল্যে রোগমুক্ত ও উন্নতমানের চারা পাওয়া যাবে। এতে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।”
বান্দরবান বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ লিটন দেবনাথ জানান, এই ল্যাব চালু হলে বান্দরবানসহ রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার কৃষকরাও উপকৃত হবেন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর কৃষি উন্নয়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের টেন্ডার ও তদারকি কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা থেকে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নির্মাণকাজের গুণগতমান নিশ্চিত করা হচ্ছে। বর্তমানে ল্যাব নির্মাণের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া ইতোমধ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে চলতি বছরেই ল্যাবটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই আধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব চালু হলে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে, উন্নত জাতের চারা সহজলভ্য হবে এবং কৃষকদের উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।