বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভূয়া পেইজ খুলে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ; তিব্র প্রতিবাদ ভূক্তভোগীর খাগড়াছড়িতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কাপ্তাইয়ে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালনে র‍্যালি ও আলোচনা সভা নানিয়ারচর লঞ্চঘাটে দখল ও প্রতিবন্ধকতা, ভোগান্তিতে যাত্রী-ব্যবসায়ীরা বিলাইছড়িতে ২৮ অক্টোবর থেকে কঠিন চীবর দান, চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত খাগড়াছড়িতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, দুর্ঘটনা কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও সতর্কতা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ লামায় বন কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ, আইনগত পদক্ষেপের কথা খাগড়াছড়িতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দল গঠন শুরু নজরুল বর্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ মহালছড়ি সেনাবাহিনী জোনের উদ্যোগে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুসবাতিতে আলোকিত রাতের আকাশ; পাহাড়ে বইছে উৎসবের আমেজ শান্তিনগর একতা ক্লাবের উদ্যোগে নাইট মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন নানিয়ারচরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত প্রয়াণের ১৮ বছরেও জন্মস্থানে নির্মিত হয়নি রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথেরোর ভাস্কর্য, বৌদ্ধ সমাজে ক্ষোভ লামায় হঠাৎ বজ্রপাতে শিশুসহ নিহত ২, আহত ২

দুর্নীতিমুক্ত পার্বত্য অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা পার্বত্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনের আগে পার্বত্য তিন জেলায় যেরকম দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাট ও অবহেলা করা হয়েছে, জনগণের নির্বাচিত বর্তমান সরকারের সময়ে তা আর ইনশাআল্লাহ হতে দেওয়া হবে না। পাহাড়ি-বাঙালি মিলে যারা এই বাংলাদেশকে একটি ‘রংধনু জাতি’ হিসেবে বিশ্বের বুকে পরিচিত করে তুলেছেন, তাদের আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

আজ রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স অডিটরিয়ামে “পাহাড়ী ফলের ঘ্রাণ, বৈচিত্র্যময় প্রাণ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘পাহাড়ি ফল মেলা ২০২৬’। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবার আগে বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে সার্থক করতে পাহাড় ও সমতলের মানুষের সমন্বয়ে পার্বত্য অঞ্চলের জীবনমান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাব। অতীতে বিভিন্ন স্কিমের নাম করে তিন পার্বত্য জেলায় ১০৭৪টি নামকাওয়াস্তে বা ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, যা কোনো বাস্তবসম্মত উন্নয়ন আনেনি। ভবিষ্যতে এই ধরণের অনর্থক স্কিম দেওয়া-নেওয়ার হার কমিয়ে আনা হবে এবং বাস্তবসম্মত ও গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতের আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে স্কুলগামী কন্যা শিক্ষার্থী, প্রসূতি মা ও বৃদ্ধদের ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতি উপজেলায় নারীদের জন্য আরও একটি করে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।
আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সেজন্য ই-লার্নিং শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের সুপেয় পানির সংকট দূর করতে সারফেইস ওয়াটারকে (উপরিভাগের পানি) কাজে লাগিয়ে প্রতিটি অঞ্চলে সুপেয় পানির সুব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পাহাড়ি কৃষকদের উৎপাদিত ফল ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি মিনি কোল্ড স্টোরেজ’ নির্মাণ করা হবে, যা কৃষকরা সমবায়ের বা সমিতির মাধ্যমে পরিচালনা করবেন। এছাড়া অবিক্রিত ফলগুলো দিয়ে ‘ড্রাই ফুড’ তৈরি করে দেশী-বিদেশী আন্তর্জাতিক বাজারে বিপণনের ব্যবস্থা করা হবে।

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কফি অত্যন্ত উচ্চমানের হওয়ায় কফি চাষকে আরও আকর্ষণীয় করতে কৃষকদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। জুম চাষিরা যাতে একই জমিতে আরও বেশি ফসল ফলিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেজন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, পাহাড়ি পণ্য প্রসেসিং ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ডিং করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় অধিবাসীদের সম্পৃক্ত করে ‘ইকো ট্যুরিজম’ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে।

পার্বত্য জেলাগুলোতে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও তথ্য কমপ্লেক্স গড়ে তোলা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে ডরমেটরি স্থাপন, তিনটি জেলায় মাল্টিপারপাস ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র, রাঙ্গামাটিতে একটি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় আধুনিক ‘তথ্য কমপ্লেক্স’ গড়ে তোলা হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, বান্দরবান পার্বত্য জেলার মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মিসেস মাধবী মার্মা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো.মনিরুল ইসলাম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরাসহ মন্ত্রণালয় ও পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই মেলায় বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার দুর্গম অঞ্চল থেকে আগত মোট ৩০টি স্টল অংশ নিয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে পাহাড়ের সুস্বাদু মৌসুমী ফল আম, আনারস, কাঁঠাল, কলার পাশাপাশি দুর্লভ বুনো রক্তফল (রসকো), রাম্বুটান ও বুনোবেলের মতো বাহারি কেমিক্যালমুক্ত ফলের সমাহার ঘটেছে। মেলাটি আগামী ২৯ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। প্রতি সন্ধ্যায় মেলা প্রাঙ্গণে থাকছে পার্বত্য অঞ্চলের নৃ-গোষ্ঠীর স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *