
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি।।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায় ১৭টি ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব ইটভাটায় আগুন না দেওয়া, জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার এবং কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তাঁরা সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে মালিকদের নোটিশ দেন এবং আইন ও আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নোটিশ পাওয়া ইটভাটাগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড মঘাইছড়ি এলাকার মেসার্স মক্কা মদিনা ব্রিকস (গগই), মেসার্স শাহ আমানত ব্রিকস (ঝঅই-১), মেসার্স আবদুল করিম ব্রিকস (কইগ); ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেসার্স সাদেকশাহ ব্রিকস (ঝঝই-১) ও মেসার্স চট্টগ্রাম ব্রিকস (ঈইগ); ইসলামপুরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেসার্স খাজা ব্রিকস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং (কইগ), মেসার্স বিসমিল্লাহ ব্রিকস (ইইগ-৩), মেসার্স বিসমিল্লাহ খাজা আজমির ব্রিকস (ইকই) ও আল মদিনা ব্রিকস (অগই)।
এ ছাড়া রাজানগর মধ্য ঘাগড়ার ত্রিপুরা সুন্দরী দিঘী এলাকার দরবার অ্যান্ড কোম্পানি (উ্ঈ), ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাজার গেট এলাকার মেসার্স কাদেরিয়া ব্রিকস (কইগ), ১ নম্বর ওয়ার্ডের বহড়াতল এলাকার মেসার্স বাগদাদ ম্যানুফ্যাকচারিং ব্রিকস (ইগই), উত্তর ঘাগড়া এলাকার হাজী আতর আলী ব্রিকস (ঐঅই), রাজানগর ১ নম্বর ওয়ার্ডের তারাবুনিয়া এলাকার মেসার্স আজমির ব্রিকস (গঅই), মেসার্স কর্ণফুলী ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং (কইগ), মেসার্স কে এম ব্রিকস (৩০৫) এবং মেসার্স হোসাইনুজ্জামান শাহ ব্রিকস (ঝণই) রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা ১২ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী কোনো কারখানা বা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগে অবস্থানগত ছাড়পত্র এবং কার্যক্রম পরিচালনার আগে পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। এসব ইটভাটার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না থাকায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন মামলা নম্বর ৯১৫৩/২০২০-এর আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলার অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ছাড়পত্রবিহীন ইটভাটার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, নির্দেশনা অমান্য করে ইটভাটা পরিচালনা করা হলে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, নিয়মিত মামলা, ইট, কাঠ ও মাটিসহ ইট পোড়ানোর সরঞ্জাম জব্দ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইটভাটা উচ্ছেদসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান, গবেষণা কর্মকর্তা মো. আশরাফ উদ্দিন, পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ফয়সল ও পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।