
মো. আবুল হাসেম, স্টাফ রিপোর্টার::
খাগড়াছড়িতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে প্রায়োগিক মাঠ পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার ২৫ জন কৃষক-কৃষাণীর মাঝে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ২৫ একর কৃষিজমিতে প্রদর্শনী কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পের অর্থায়নে বীজ, সার ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়েছে।
বিতরণকৃত উপকরণের মধ্যে ছিল, ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি, জিপসাম, জিংক সালফেটসহ বিভিন্ন সার; রোগ ও পোকামাকড় দমনের জন্য কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক; এবং প্রদর্শনী সাইনবোর্ড।
অনুষ্ঠানে ব্রি খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মীর ওবায়দুর রহমান শাওনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কার্যালয়ের প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বোরো মৌসুমে সঠিক বয়সের চারা রোপণ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, আগাছা দমন এবং পোকামাকড় ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্রি উদ্ভাবিত আধুনিক ও উচ্চফলনশীল ধানের সর্বোচ্চ ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব। আধুনিক ধান চাষাবাদ পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে ধান চাষকে লাভজনক করা এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে কৃষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।” তিনি মাজরা পোকার আক্রমণ ও ব্লাস্ট রোগ থেকে ধান রক্ষায় করণীয় বিষয়ে কৃষকদের বিস্তারিত পরামর্শ প্রদান করেন।
বিশেষ অতিথি কৃষিবিদ তরুণ জয় ত্রিপুরা বলেন, “বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক কার্যালয়ের কার্যক্রম এ অঞ্চলের কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে অন্যান্য কৃষকরাও আধুনিক ধান চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন।” এর আগে প্রদর্শনীভুক্ত কৃষকদের মাঝে বোরো মৌসুমের জন্য ব্রি উদ্ভাবিত স্থানভিত্তিক জনপ্রিয় উচ্চফলনশীল ধানের বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
এ ধরনের উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে আধুনিক চাষাবাদের প্রসার ঘটাবে এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।