
নতুন ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের অর্থায়নে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে ধান চাষের বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গণে প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়নের লক্ষ্যে এ উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) আঞ্চলিক কার্যালয়, খাগড়াছড়ি। এতে সহযোগিতা করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) আঞ্চলিক কার্যালয়, খাগড়াছড়ির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প প্রধান মো. সিরাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জাকারিয়া ইবনে বাকি, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ইউনুছ নুর এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ চাকমা।
বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মীর ওবায়দুর রহমান শাওনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সবুজ আলী।
এ সময় উপজেলার ছয়জন নির্বাচিত কৃষকের মাঝে ধান চাষে প্রয়োজনীয় ইউরিয়া, এমওপি, ডিএপি, জিপসাম, জিংক সালফেট, কীটনাশক, ছত্রাকনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ এবং প্রদর্শনী সাইনবোর্ড বিতরণ করা হয়। এসব উপকরণ ব্যবহার করে কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে ধানের আধুনিক জাত ও প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ধানের জাতগুলো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, উচ্চ ফলনশীল এবং কৃষকদের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। সঠিক সময় ও নিয়ম মেনে চারা রোপণ এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো ফলন পেতে সক্ষম হবেন।”
তিনি আরও বলেন, “ধানের উৎপাদন টেকসই রাখতে ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। এ রোগ দমনে ওষুধ প্রয়োগের সঠিক সময় ও পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই দুপুরের রোদ্রোজ্জ্বল সময়ে কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা উচিত নয়। বরং বিকাল বেলায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সঠিক মাত্রা ও নিয়ম মেনে ওষুধ প্রয়োগ করলে ব্লাস্ট রোগের ক্ষতি থেকে ধান ক্ষেতকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকরা বলেন, এ ধরনের সহায়তামূলক উদ্যোগ পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী। এতে আধুনিক জাত ও প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া যায় এবং উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।