মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহালছড়িতে বিশেষ অভিযান; ইউপিডিএফ (মূল) এর ৩ জন সশস্ত্র চাঁদাবাজ গ্রেফতার মানিকছড়িতে ‘‘আলোকিত মানিকছড়ি” জনকল্যাণ সংস্থার ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের আভাস শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পার্বত্য মন্ত্রীর পদত্যাগ রুমায় ঝড়ে বৃদ্ধের ঘরে গাছের ডাল, অল্পের জন্য রক্ষা কর্ণফুলীতে নৌকাডুবি: ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা ৪ কিশোরকে পুলিশের সাহসিকতা সম্মাননা উচ্চশিক্ষায় আগ্রহ বাড়াতে ঈদগাঁওয়ে কর্মশালা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা রামগড়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রাঙামাটিতে ভূষণছড়া হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শোকসভা রাজস্থলীতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে হেডম্যান-কারবারি সম্মেলন পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালার মধ্য বোয়ালখালীতে কালভার্ট ধস, দুর্ভোগে ২০০ পরিবার প্রত্যন্ত সিন্দুকছড়ি থেকে বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের উড়ান: পিএইচডি অর্জন করলেন ড. সজীব ত্রিপুরা স্বেচ্ছাশ্রমে কবরস্থান সংস্কারে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রামুতে ‘প্রজন্ম’ ৯৫-এর উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও ক্রেস্ট প্রদান রাজস্থলীতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন স্মৃতির আবেগে মুখর কাচালং স্কুলের এসএসসি ’৯১ ব্যাচের দ্বিতীয় পুনর্মিলনী
Notice :

লামায়–আলীকদমে তামাক চাষের আগ্রাসন

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামায় ও আলীকদম উপজেলায় ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে তামাক চাষের আগ্রাসন। সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল, ঝিরি, খাল ও নদীর পাড় দখল করে নির্বিঘ্নে পরিচালিত এই তামাক চাষ দেশের প্রচলিত পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হলেও কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
বন আইন, ১৯২৭ (সংশোধিত) অনুযায়ী, সরকারি বনভূমিতে অনুমতি ব্যতীত কোনো প্রকার কৃষিকাজ, বৃক্ষ নিধন কিংবা ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ লামায়ও আলীকদমে প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ মদদে বনভূমি উজাড় করে তামাক চাষ করা হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখলের শামিল।তামাক চাষে ব্যবহৃত অতিমাত্রার কীটনাশক ও রাসায়নিক সার বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে নদী, খাল ও ঝিরিতে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জলজ প্রাণী বিশেষত মাছের ব্যাপক প্রতিনিয়ত মৃত্যু ঘটনা ঘটছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, দুই উপজেলায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী, পরিবেশের ক্ষতি সাধনকারী যেকোনো কার্যক্রম দণ্ডনীয় অপরাধ এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। বাস্তবে এসব আইন প্রয়োগে চরম শৈথিল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশ মৎস্য সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী, কোনো জলাশয়ে বিষাক্ত বা ক্ষতিকর পদার্থ নিক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তামাক ক্ষেতে ব্যবহৃত কীটনাশক যখন ঝিরি ও খালে মিশে মাছ নিধনের কারণ হচ্ছে, তখন তা এই আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। তামাক চাষের জন্য পাহাড় কেটে জমি সমতল করায় ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে। অপরদিকে, বিশুদ্ধ পানির উৎস ধ্বংস হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছেন।
পরিবেশবিদদের মতে, তামাক চাষ স্বল্পমেয়াদি মুনাফা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি ভূমির উর্বরতা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধ্বংস করে।লামায়-আলীকদমে দুই উপজেলায় তামাক চাষের এই অবাধ আগ্রাসন রোধে অবিলম্বে বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত আইনানুগ অভিযান জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধ তামাক চাষের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে আইন ও সংবিধানের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে বলে জানান স্থানীয়রা। পরিবেশ রক্ষা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়।এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এখনই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পাহাড়, বন ও জলাধার হারিয়ে যাবে অপরিবর্তনীয় ক্ষতির পথে এমন অভিযোগ তোলে স্থানীয়দের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *