
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে আলোচনা সভা, নারী সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি। কর্মসূচি থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)’র বিরুদ্ধে নারী শোষণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তাকে পদ থেকে অপসারণ এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
রোববার (৮ মার্চ) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের চেঙ্গী স্কয়ার এলাকায় এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিতি চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমা।
স্মারকলিপিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নারীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, এ ধরনের অভিযোগ তার স্ত্রী শিপ্রা দেওয়ানের পক্ষ থেকেও উত্থাপিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ২০০৫ সালের ২১ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তৎকালীন নেতাদের কাছে লেখা এক চিঠিতে শিপ্রা দেওয়ান তার স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও যৌন শোষণের অভিযোগ তোলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগ অনুযায়ী ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে চাকরি, আর্থিক সুবিধা বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন নারীকে শোষণের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম, নিয়োগ এবং তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তা তদন্তের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ক্ষমতার অপব্যবহার ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— সন্তু লারমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, আঞ্চলিক পরিষদের গত প্রায় ২৭ বছরের নিয়োগ ও তহবিল ব্যবহারের বিষয়ে তদন্ত এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তবে এ বিষয়ে সন্তু লারমা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং পাহাড়ি নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা সময়ের দাবি।