
দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙ্গামাটি
রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই হ্রদে আগামী ২৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ৩ মাসের জন্য মাছ আহরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সভায় জানানো হয়, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি প্রচারের জন্য নৌ ও সড়কপথে মাকিং করা হবে, যাতে করে সবাই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। পাশাপাশি অবৈধ মাছ আহরণ রোধে কাপ্তাই হ্রদে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইশতিয়াক হায়দার, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) এর কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী নৌ পুলিশ সুপার আবু মো. দিলওয়ার হাসান ইনাম, রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমানসহ জেলে ও মৎস্যজীবী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) এর কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, আগামী ২৪ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাত থেকে হ্রদে মাছ শিকার বন্ধ হবে এবং ২৫ এপ্রিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিএফডিসি ঘাটে অবতরণ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, আগামী ২ মে থেকে হ্রদে পোনা ছাড়া শুরু হবে। বন্ধকালীন সময়ে কেউ যাতে অবৈধভাবে মাছ শিকার ও পরিবহন করতে না পারে তার জন্য অস্থায়ী চেক পোষ্ট স্থাপন করা হবে।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, চলিত মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, বংশবৃদ্ধি ও বিকাশের স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্ভরশীল কার্ডধারী জেলেদের ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে চাল বিতরণ করা হবে।এদিকে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোর সহায়তায় মানবিক কর্মসূচি চালু করেছে। এর আওতায় রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার মোট ২৬ হাজার ৮৪৫টি জেলে পরিবারকে দুই মাসে প্রতি পরিবারে ৪০ কেজি করে মোট ১,০৭৩.৮০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে।
এ ছাড়া খাদ্য সহায়তা পরিবহনের জন্য প্রতি পরিবারে ৩৫০ টাকা হারে মোট ৩৭ লাখ ৫৮ হাজার ৩০০ টাকা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবিকায় সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।