
মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ৩নং কবাখালী ইউনিয়নের উত্তর মিলনপুর এলাকার এক করুণ মানবিক চিত্র—জন্মগত প্রতিবন্ধিতার কারণে টানা ২৪ বছর ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী জীবন কাটাচ্ছেন আয়শা আক্তার (২৪)। জন্ম থেকেই তার মাথার আকার স্বাভাবিকের তুলনায় বড় হওয়ায় তিনি কখনোই দাঁড়াতে বা স্বাভাবিকভাবে বসতে পারেননি। শৈশব থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তার পুরো জীবন কেটেছে বিছানার চার দেয়ালের মধ্যে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আয়শার বাবা তার জন্মের মাত্র আট বছর পর মারা যান। সেই সময় থেকেই পরিবারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে ৬৫ বছর বয়সী মা আহের বানুর ওপর। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি একাই সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়ের সার্বক্ষণিক সেবা ও পরিচর্যা করে আসছেন।
বর্তমানে আহেরা বানু চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বয়স ও শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও তিনি মেয়ের দেখাশোনা, ওষুধপত্র ও চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি চরম দারিদ্র্য ও অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
আহের বানু বলেন- আমার স্বামী নেই, মেয়েটা জন্ম থেকেই এভাবে পড়ে আছে। ওর চিকিৎসা, ওষুধ আর খরচ চালানো খুব কষ্ট হচ্ছে। কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায় না।” আয়শা আক্তারের প্রতিদিনের জীবন সম্পূর্ণভাবে বিছানাকেন্দ্রিক। খাওয়া-দাওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, এমনকি প্রাথমিক পরিচর্যার কাজগুলোও মায়ের সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়। দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে অতি কষ্টে দিন কাটালেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পায়নি।
এ বিষয়ে কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা বলেন,“বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক ও দুঃখজনক। আমরা পরিবারটির খোঁজ নিয়েছি এবং সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করা হবে।”
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন,“আয়শা আক্তারের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তাকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা, ভাতা ও চিকিৎসা সহায়তার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।”
দীর্ঘ ২৪ বছরের এই নীরব কষ্ট ও সংগ্রামের গল্প স্থানীয়দের হৃদয় ছুঁয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে স্থায়ী সহায়তা প্রদানের জোর দাবি জানিয়েছেন।