April 18, 2026, 7:14 am
শিরোনাম :
খাগড়াছড়িতে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধন; চলবে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত রামু এ.কে. আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে পুরস্কার বিতরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে এক দৃঢ় নারী নেতৃত্ব কুহেলী দেওয়ান বরকলের সীমান্তবর্তী বড় হরিনায় ১২ বিজিবির জনসচেতনতামূলক সভা রাঙ্গামাটিতে পানিখেলায় মারমা তরুণ-তরুণীদের উচ্ছাস কাপ্তাইয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত রাঙামাটিতে যুবনেতা ধর্মশিং চাকমা হত্যা: ইউপিডিএফ’র নিন্দা ও প্রতিবাদ রাঙামাটিতে যুবনেতা ধর্মশিং চাকমা গুলিতে নিহত, নিন্দা ও প্রতিবাদ ডিওয়াইএফের নাইল্যাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক তিন ঘটনায় তিন নারী গ্রেফতার সীমান্তে ৩৪ বিজিবির মানবিক উদ্যোগ: ঘুমধুমে চিকিৎসা সেবা, অনুদান ও উপহার বিতরণ দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর সহায়তা কার্যক্রম: বদলাচ্ছে অসহায়দের জীবন লামায় মাতামুহুরী নদীতে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু রাজস্থলী তাইতংপাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নই সরকারের অগ্রাধিকার: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল পাহাড়ের দুর্গম জনপদ সিন্দুকছড়ি সেনাবাহিনী জোনের মানবিক স্বাস্থ্যসেবা; বিনামূল্যে চিকিৎসা পেল দেড় সহস্রাধিক মানুষ
Notice :

বর্জ্য যখন সম্পদ: মাটিরাঙ্গার শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনে প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি তেল

Reporter Name

মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা:

​প্লাস্টিক বর্জ্য যা পরিবেশের জন্য এক নীরব ঘাতক। মাটিতে শত শত বছর থাকলেও এটি মিশে যায় না, বরং নষ্ট করে উর্বরতা। কিন্তু এই ক্ষতিকর বর্জ্যকেই রূপান্তর করা সম্ভব মূল্যবান জ্বালানিতে। এমন এক আশাজাগানিয়া উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে হাজির হয়েছে খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী তাইন্দং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদরে আয়োজিত ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে তাদের এই উদ্যোগ এখন নজর কাড়ছে সবার।

​উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকা তাইন্দং। সেখানকার বিদ্যালয়ের মাঠ পরিষ্কার করতে গিয়ে একদিন শিক্ষার্থীরা লক্ষ্য করে, প্লাস্টিক বা জুসের বোতল পোড়ালে এক ধরনের তৈলাক্ত অবশিষ্টাংশ থেকে যায়। সাধারণের চোখে এটি সামান্য বিষয় হলেও বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশরাফুল, আল নাইম, সামিয়া আক্তার, আরমান হোসেন ও ইয়াসফিন ইসলাম রিদিয়ার মনে এটি গভীর কৌতূহল জাগায়। তারা ভাবতে শুরু করে, প্লাস্টিক পুড়িয়ে কি তবে জ্বালানি তৈরি সম্ভব?

​তাদের এই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগান বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক মোছা: তাজনেহার। তাঁর সঠিক নির্দেশনায় তৈরি হয় ‘প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন’ শীর্ষক এই প্রকল্প।

​শিক্ষার্থীরা তাদের এই প্রকল্পের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে জানায়, এটি মূলত একটি ‘পাইরোলাইসিস’ প্রক্রিয়া।

১. প্রথমে চারপাশ থেকে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য সংগ্রহ করে একটি বড় রিঅ্যাক্টরে (কন্টেইনার) রাখা হয়।

২. এরপর সেগুলোকে অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে ৩০০ থেকে ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হয়।

৩. উত্তপ্ত প্লাস্টিক গলে বাষ্পে পরিণত হয়ে একটি কন্ডেনসারে যায়। সেখানে ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে সেই বাষ্প ঘনীভূত হয়ে তরল তেলে রূপান্তরিত হয়, যা মূলত ‘পাইরোলাইসিস অয়েল’।

​এই তেলকে পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পরিশোধন করে এলপিজি গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। শিক্ষার্থীরা জানায়, এটি যেমন সাশ্রয়ী, তেমনি বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে এক কার্যকর সমাধান হতে পারে।

​বিদ্যালয় মাঠের যত্রতত্র পড়ে থাকা পলিথিন বা প্লাস্টিক যা আগে পুড়িয়ে নষ্ট করা হতো, এখন তা সম্পদে পরিণত হওয়ার পথে। মাটিরাঙ্গায় আয়োজিত বিজ্ঞান মেলা, ১০ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এই কিশোর বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য প্লাস্টিক দূষণমুক্ত একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।

​বিজ্ঞান শিক্ষক তাজনেহার বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা ক্ষুদ্র পরিসরে এটি তৈরি করলেও সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই প্রযুক্তি বড় আকারে প্রয়োগ করা সম্ভব। এতে পরিবেশ যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি দেশের জ্বালানি খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”

​প্লাস্টিক বর্জ্যকে পুড়িয়ে পরিবেশ ধ্বংস না করে, তাকে সম্পদে রূপান্তরের এই রূপরেখা তাইন্দং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে এক দূষণমুক্ত আগামীর স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

তাইন্দং উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহাজাহান শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, অতি দুর্গম এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে লুকিয়ে আছে অসামান্য প্রতিভা। তাদের এই প্রজেক্টটি সম্পূর্ণ নিজস্ব চিন্তার ফসল। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জন্য তিনি নিয়মিত তাদের বিভিন্ন সৃজনশীল অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেন এবং বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করেন।