May 2, 2026, 5:14 pm
শিরোনাম :
বিলাইছড়িতে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ইদগড়ে “আল-খিদমা হেলথ কেয়ার” উদ্বোধন, ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পে ব্যাপক সাড়া বিলাইছড়িতে মহান মে দিবস পালিত  রাজস্থলীতে মহান মে দিবস জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস উদযাপন খাগড়াছড়িতে বৈশাখী পূর্ণিমার বর্ণিল উদযাপন বুদ্ধ পূর্ণিমায় বিলাইছড়িতে ১০৫ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ খাগড়াছড়িতে মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য-সেইফটি দিবস পালিত লামায় কুইজ্জাখোলায় সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, দুর্ভোগে ৫৫ পরিবার ইসলামপুরে মাইক্রো চালককে হত্যা, এলাকাবাসীর মানববন্ধন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রম জাতিসংঘে তুলে ধরলেন পার্বত্য সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ আয়োজনকে সামনে রেখে প্রেস ব্রিফিং শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান মাটিরাঙ্গায় ‘Special Program – Development (Agriculture)’ প্রকল্পে বিভিন্ন খামারে IoT ডিভাইস স্থাপন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে  শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে মা-মেয়ের মৃত্যু কাপ্তাইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত 
Notice :

বর্জ্য যখন সম্পদ: মাটিরাঙ্গার শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনে প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি তেল

Reporter Name

মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা:

​প্লাস্টিক বর্জ্য যা পরিবেশের জন্য এক নীরব ঘাতক। মাটিতে শত শত বছর থাকলেও এটি মিশে যায় না, বরং নষ্ট করে উর্বরতা। কিন্তু এই ক্ষতিকর বর্জ্যকেই রূপান্তর করা সম্ভব মূল্যবান জ্বালানিতে। এমন এক আশাজাগানিয়া উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে হাজির হয়েছে খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী তাইন্দং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদরে আয়োজিত ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে তাদের এই উদ্যোগ এখন নজর কাড়ছে সবার।

​উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকা তাইন্দং। সেখানকার বিদ্যালয়ের মাঠ পরিষ্কার করতে গিয়ে একদিন শিক্ষার্থীরা লক্ষ্য করে, প্লাস্টিক বা জুসের বোতল পোড়ালে এক ধরনের তৈলাক্ত অবশিষ্টাংশ থেকে যায়। সাধারণের চোখে এটি সামান্য বিষয় হলেও বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশরাফুল, আল নাইম, সামিয়া আক্তার, আরমান হোসেন ও ইয়াসফিন ইসলাম রিদিয়ার মনে এটি গভীর কৌতূহল জাগায়। তারা ভাবতে শুরু করে, প্লাস্টিক পুড়িয়ে কি তবে জ্বালানি তৈরি সম্ভব?

​তাদের এই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগান বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক মোছা: তাজনেহার। তাঁর সঠিক নির্দেশনায় তৈরি হয় ‘প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন’ শীর্ষক এই প্রকল্প।

​শিক্ষার্থীরা তাদের এই প্রকল্পের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে জানায়, এটি মূলত একটি ‘পাইরোলাইসিস’ প্রক্রিয়া।

১. প্রথমে চারপাশ থেকে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য সংগ্রহ করে একটি বড় রিঅ্যাক্টরে (কন্টেইনার) রাখা হয়।

২. এরপর সেগুলোকে অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে ৩০০ থেকে ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হয়।

৩. উত্তপ্ত প্লাস্টিক গলে বাষ্পে পরিণত হয়ে একটি কন্ডেনসারে যায়। সেখানে ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে সেই বাষ্প ঘনীভূত হয়ে তরল তেলে রূপান্তরিত হয়, যা মূলত ‘পাইরোলাইসিস অয়েল’।

​এই তেলকে পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পরিশোধন করে এলপিজি গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। শিক্ষার্থীরা জানায়, এটি যেমন সাশ্রয়ী, তেমনি বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে এক কার্যকর সমাধান হতে পারে।

​বিদ্যালয় মাঠের যত্রতত্র পড়ে থাকা পলিথিন বা প্লাস্টিক যা আগে পুড়িয়ে নষ্ট করা হতো, এখন তা সম্পদে পরিণত হওয়ার পথে। মাটিরাঙ্গায় আয়োজিত বিজ্ঞান মেলা, ১০ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এই কিশোর বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য প্লাস্টিক দূষণমুক্ত একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।

​বিজ্ঞান শিক্ষক তাজনেহার বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা ক্ষুদ্র পরিসরে এটি তৈরি করলেও সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই প্রযুক্তি বড় আকারে প্রয়োগ করা সম্ভব। এতে পরিবেশ যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি দেশের জ্বালানি খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”

​প্লাস্টিক বর্জ্যকে পুড়িয়ে পরিবেশ ধ্বংস না করে, তাকে সম্পদে রূপান্তরের এই রূপরেখা তাইন্দং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে এক দূষণমুক্ত আগামীর স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

তাইন্দং উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহাজাহান শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, অতি দুর্গম এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে লুকিয়ে আছে অসামান্য প্রতিভা। তাদের এই প্রজেক্টটি সম্পূর্ণ নিজস্ব চিন্তার ফসল। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জন্য তিনি নিয়মিত তাদের বিভিন্ন সৃজনশীল অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেন এবং বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করেন।