শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফেসবুক স্ট্যাটাসে নজর, রাঙ্গামাটির আসামবস্তি কেন্দ্রীয় শ্মশানে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন বান্দরবানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত ১১ কোটি টাকায় বান্দরবানে তিনটি আধুনিক বাজার ভবন সম্পন্ন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সাজেকে পর্যটকের হারানো মোবাইল উদ্ধার করে ফেরত দিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী লংগদুতে জমি দখল ও আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ দাবি ৩৭ বিজিবির লামায় মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স পাহাড় বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবাসন সংকটে লামার ১,৩২৫ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রভাব পড়ছে সেবায় জ্ঞানের আলো ছড়াতে ঈদগাঁওতে নতুন পাঠাগার পানছড়ির মরাটিলায় ঝর্ণা থেকে পাওয়া ‘শিবমূর্তি’ ঘিরে ভক্তদের ভিড়, পৃথক মন্দির নির্মাণে সহায়তার আহ্বান কাপ্তাইয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন লামায় প্রশাসন ও কারিতাস’র বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন ঈদগাঁওতে দু’ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা বান্দরবানে সীমান্তে ৩ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ১০০৮৪১ পিস ইয়াবা উদ্ধার ইসলামপুর ইউনিয়ন বাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশী: যুবনেতা ইমরুল হাসান তালুকদার বাংলা আমার প্রণোদনা পুরস্কার-২০২৬ পেলেন সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক ও বাচিকশিল্পী চিংলামং চৌধুরী
Notice :

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে সুস্পষ্ট নির্বাচনী অঙ্গীকার জরুরি: আঞ্চলিক সংলাপে বক্তারা

বিশেষ প্রতিনিধি ।

বিশেষ প্রতিনিধি ।
পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল একটি আঞ্চলিক অগ্রাধিকার নয়, বরং একটি জাতীয় অপরিহার্যতা—এমন মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী বক্তব্যের গণ্ডি পেরিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক স্বচ্ছতা, কৌশলগত দূরদৃষ্টি ও নীতিনির্ভর অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ়করণ, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য।

চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওন্যাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)-এর উদ্যোগে রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের বায়েজিদে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা জোরদারে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকার’ শীর্ষক আঞ্চলিক সংলাপে এসব কথা বলা হয়।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিসিআরএসবিডির চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ও সিসিআরএসবিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিসিআরএসবিডির পরিচালক অধ্যাপক সরওয়ার জাহান।

প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী, সিনিয়র সাংবাদিক ও কবি ওমর কায়সার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মং রাজা মংপ্রু সাইন বাহাদুর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কুমার সুইচিংপ্রু সাইন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী। সংলাপের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন চবির আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারেফ হোসেন। এছাড়াও বক্তব্য দেন উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশাফউজ্জামান এবং ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহ মুহাম্মদ সুলতান ইকবাল।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। জাতিগত বৈচিত্র্য, ঐতিহাসিক অভিযোগ এবং সময়ান্তরে উদ্ভূত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এ অঞ্চলের বাস্তবতা। জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে সব রাজনৈতিক দলের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতি, কৌশল ও প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সত্ত্বেও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, ভূমি বিরোধ, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আন্তঃসাম্প্রদায়িক আস্থার ঘাটতিসহ বেশ কিছু অমীমাংসিত সমস্যা টেকসই শান্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে। অথচ নির্বাচনী ইশতেহারে এসব বিষয়ে অধিকাংশ সময় নীরবতা বা অস্পষ্টতা লক্ষ্য করা যায়। এ অবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর আরও স্বচ্ছ, বুদ্ধিবৃত্তিক ও নীতিনির্ভর ভূমিকা প্রয়োজন।

সংলাপে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৫ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—শান্তিচুক্তির বিতর্কিত ধারা পুনর্মূল্যায়ন, ভূমি কমিশন আইন সংশোধন, সঠিক জরিপের মাধ্যমে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি, আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদের নিয়মিত নির্বাচন, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের চিহ্নিতকরণ, চাকরি ও শিক্ষায় বৈষম্য নিরসন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা রোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে সামরিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, বরং রাজনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের পথে অগ্রসর হতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সহযোগিতামূলক অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমেই এ অঞ্চলে টেকসই শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *