March 10, 2026, 1:21 pm
শিরোনাম :
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক মহালছড়ির কৃষকদের বীজ ও সার বিতরণ খাগড়াছড়িতে ভাতাভোগী আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের ঈদ উপহার বিতরণ রাজস্থলীতে দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা লক্ষীছড়িতে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সেনাবাহিনীর ইফতার সামগ্রী বিতরণ লামায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে মহড়া ও আলোচনা সভা গণহত্যা দিবস ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাজস্থলীতে প্রস্তুতি সভা ফ্যামিলি কার্ডে পরিবারের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন হবে: পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান কাপ্তাইয়ে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত মাটিরাঙ্গায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে ইউএনডিপি ও বাংলাদেশ সরকারের অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় লামায় ১০৮ পিস ইয়াবাসহ এক ব্যক্তি আটক আলীকদমে পিআইওর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান রাজস্থলীতে যুবশক্তির ভূমিকা শীর্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত আলীকলম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) এর মানবিক উদ্যোগ রাজস্থলীতে পিডিবিএফের নেতৃত্ব বিকাশ ও সামাজিক উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু
Notice :

মাটিরাঙ্গায় সূর্যমুখী চাষে নতুন কৃষি সম্ভাবনা

মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি।।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার পাহাড়ি ঢালগুলো এখন সোনালি হলুদে ছেয়ে গেছে। দিগন্তজোড়া মাঠে হাজার হাজার সূর্যমুখী ফুল মাথা উঁচু করে দোল খাচ্ছে, যা কেবল প্রকৃতিপ্রেমীদের নয়, স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও নতুন আশা জাগাচ্ছে।

সূর্যমুখী ফুলের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি সূর্যের দিকে মুখ করে ঘোরে, যা ‘হেলিওট্রপিজম’ নামে পরিচিত। বিশেষ করে কচি সূর্যমুখী গাছে এ প্রবণতা বেশি দেখা যায়, ফলে গাছ সর্বোচ্চ পরিমাণ সূর্যালোক গ্রহণ করতে পারে। এর ফলে বৃদ্ধি ও বীজ গঠনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

মাটিরাঙ্গার কামিনী মেম্বার পাড়ার বাসিন্দা যশোদা রাণি জেলার জলবায়ু সহনশীল (করলিয়া) প্রকল্পের একজন নারী উদ্যোক্তা। আগে তিনি ধান চাষ করতেন, তবে এবার ব্যক্তিগত শখ ও লাভের হিসাব মিলিয়ে সূর্যমুখী চাষ বেছে নিয়েছেন। এক বিঘা জমিতে তিনি ১০ হাজার টাকা খরচ করে ৮ু১০ মণ ফলনের আশা করছেন। তিনি বলেন, “বড় আকারের ফুল হলে মাত্র পাঁচটি ফুল থেকে প্রায় এক কেজি বীজ পাওয়া যায়। বাজারমূল্য ঠিক থাকলে এতে ধানের তুলনায় লাভ অনেক বেশি।”

উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৩৫ জন কৃষক টাটা কোম্পানির হাইব্রিড টিএসএফ-২৭৫ জাতের সূর্যমুখী বীজ ও প্রয়োজনীয় সার সহায়তা পেয়েছেন। তাইন্দং ইউনিয়নের বটতলী এলাকার কৃষক সোহেল মিয়া এবার ৫ বিঘা জমিতে এই জাতের সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তিনি জানান, “ধানের তুলনায় এতে সেচ ও রোগবালাই অনেক কম। ফলন আশানুরূপ হলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে চাষ করার পরিকল্পনা আছে।”

মাটিরাঙ্গার হলদে বাগিচাগুলো এখন স্থানীয়দের জন্য বিনোদনের কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা ছবি ও সেলফি তুলতে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ছবি ছড়িয়ে পড়ায় বাণিজ্যিক সম্ভাবনার পাশাপাশি এলাকাটি পর্যটন দিক থেকেও পরিচিতি পাচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে কাজ করা কৃষি কর্মকর্তারা পাহাড়ি এলাকায় সূর্যমুখী চাষকে লাভজনক ও স্বল্পমেয়াদি ফসল হিসেবে দেখছেন। তাইন্দং ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “কৃষক সোহেল মিয়া ৫ বিঘা জমিতে হাইব্রিড সূর্যমুখী চাষ করেছেন। আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকি, আশা করছি এবার ভাল ফলন হবে।”

মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সেলিম রানা বলেন, “এখানকার মাটি সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী। উৎপাদিত তেল সুগন্ধি ও সুস্বাদু।” উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেন, “পাহাড়ি অঞ্চলে বিকল্প ফসল হিসেবে সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণে আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিচ্ছি। এটি স্থানীয়ভাবে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

এক সময় যেসব পাহাড়ি জমি বড় সময় ধরে পড়ে থাকত, এখন সেখানে দোল খাচ্ছে সোনালী সূর্যমুখী। যথাযথ বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা থাকলে এই ‘সূর্যমুখীর হাসি’ ছড়িয়ে পড়বে প্রতিটি পাহাড়ি কৃষকের ঘরে।