May 3, 2026, 11:52 am
শিরোনাম :
লংগদু জোন তেজস্বী বীরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়ার প্রত্যন্ত এলাকার ৯৬পরিবার পেল সুপেয় পানি অলি-রনি-গালিবের নেতৃত্বে আট বছর পর রাঙামাটি ছাত্রদলের নতুন কমিটি বিলাইছড়িতে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ইদগড়ে “আল-খিদমা হেলথ কেয়ার” উদ্বোধন, ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পে ব্যাপক সাড়া বিলাইছড়িতে মহান মে দিবস পালিত  রাজস্থলীতে মহান মে দিবস জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস উদযাপন খাগড়াছড়িতে বৈশাখী পূর্ণিমার বর্ণিল উদযাপন বুদ্ধ পূর্ণিমায় বিলাইছড়িতে ১০৫ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ খাগড়াছড়িতে মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য-সেইফটি দিবস পালিত লামায় কুইজ্জাখোলায় সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, দুর্ভোগে ৫৫ পরিবার ইসলামপুরে মাইক্রো চালককে হত্যা, এলাকাবাসীর মানববন্ধন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রম জাতিসংঘে তুলে ধরলেন পার্বত্য সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ আয়োজনকে সামনে রেখে প্রেস ব্রিফিং শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান মাটিরাঙ্গায় ‘Special Program – Development (Agriculture)’ প্রকল্পে বিভিন্ন খামারে IoT ডিভাইস স্থাপন
Notice :

খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়ার প্রত্যন্ত এলাকার ৯৬পরিবার পেল সুপেয় পানি

Reporter Name

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি।।
পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী। মানুষের কাছে বিশুদ্ধ পানি একসময় ছিল নিত্যদিনের সংগ্রামের নাম। দূর পাহাড়ি ঝিরি, কূপ কিংবা একমাত্র নলকূপের ওপর নির্ভর করে চলতে হতো দিনের পর দিন। বর্ষায় কাদা, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট,সব মিলিয়ে জীবন ছিল কষ্টময়। সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়ার তিনটি পাড়ায় উদ্বোধন করা হয়েছে আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা টাওয়ার।

শনিবার (২ মে) সকালে পার্বত্য জেলা পরিষদের CoRLIA প্রকল্পের আওতায়, Ecosystems Restoration and Resilient Development (ERRD)-CHT এবং ইউএনডিপির সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ,এবং এ সময় সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন করলিয়া প্রকল্পের জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা নবলেশ্বর ত্রিপুরা লায়ন।

এদিন দ্রোনচার্য পাড়া, দেবরঞ্জন পাড়া এবং আপ্রুশি চেয়ারম্যান পাড়ায় ইলেকট্রিক পাম্প ও সৌরশক্তিচালিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন নিরাপদ পানি পৌঁছে যাবে মানুষের দোরগোড়ায়। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং একটি নতুন জীবনের সূচনা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মো. আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, “পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিরাপদ পানির গুরুত্ব অপরিসীম। এই প্রকল্প মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত হওয়ায় এর রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থায়িত্বও নিশ্চিত হবে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে পার্বত্য জেলা পরিষদ সবসময় কাজ করে যাবে।”

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, তিনটি পাড়ার মোট ৯৬টি পরিবার সরাসরি এই সুবিধার আওতায় এসেছে। এর মধ্যে দ্রোনচার্য পাড়ার ২৫টি, দেবরঞ্জন পাড়ার ২৬টি এবং আপ্রুশি চেয়ারম্যান পাড়ার ২৭টি পরিবার নিয়মিত সুপেয় পানি ব্যবহার করতে পারবে। দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট লাঘব হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।
প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্থানীয় জনগণের এই অংশগ্রহণ প্রকল্পটির প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা ও মালিকানাবোধকে আরও দৃঢ় করেছে।

করলিয়া প্রকল্পের জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা নবলেশ্বর ত্রিপুরা লায়ন বলেন,”আমরা শুধু একটি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করিনি; আমরা একটি টেকসই কমিউনিটি গড়ে তুলেছি। আধুনিক প্রযুক্তি, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার সমন্বয়ে এই প্রকল্প ভবিষ্যতের জন্য একটি মডেল হয়ে থাকবে।”
তিনি আরও জানান, দ্রোনচার্য পাড়ায় নতুন নলকূপ স্থাপন, বিদ্যুৎ সংযোগ, ২০০০ লিটার ধারণক্ষমতার প্রধান ট্যাংক এবং ১০০০ লিটার ধারণক্ষমতার সাব-ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি পৃথক পানি সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করে পুরো পাড়াকে নিরাপদ পানির আওতায় আনা হয়েছে।

দেবরঞ্জন পাড়ায় বিদ্যমান নলকূপের সঙ্গে ইলেকট্রিক পাম্প সংযুক্ত করে ২০০০ লিটার ও ১০০০ লিটার ধারণক্ষমতার দুটি ট্যাংকে পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন নলকূপ স্থাপন এবং পৃথক বিদ্যুৎ মিটার সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, আপ্রুশি চেয়ারম্যান পাড়ায় পানীয় জলের পাশাপাশি কৃষি সেচ ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে সৌরশক্তি। কৃষিনির্ভর এই পাড়ায় সোলার সেচ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ফসলের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
দ্রোনচার্য পাড়ার এক গৃহিণী বলেন,”আগে ভোরে উঠে অনেক দূর থেকে পানি আনতে হতো। বর্ষাকালে কাদার মধ্যে চলাচল করা ছিল খুব কষ্টের। এখন ঘরের কাছেই বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছি। আমাদের জীবনে এর চেয়ে বড় স্বস্তি আর কী হতে পারে!”
দ্রোনচার্য পাড়া কার্বারি জীবন চাকমা বলেন, “একটি মাত্র নলকূপের ওপর পুরো পাড়া নির্ভর করত। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। এখন সহজেই পানি পাওয়া যাচ্ছে। এটি আমাদের জন্য বিরাট পরিবর্তন।

উপকারভোগীরা পরিবারেরা বলেন, “পানীয় জলের পাশাপাশি সোলার সেচ ব্যবস্থাও আমাদের জন্য আশীর্বাদ। এতে সেচ খরচ কমবে, কৃষিকাজ সহজ হবে এবং উৎপাদনও বাড়বে।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকল্প কর্মকর্তা, পাড়ার প্রবীণ ব্যক্তি, নারী-পুরুষ এবং বিপুলসংখ্যক উপকারভোগী উপস্থিত ছিলেন। তাদের মুখে ছিল আনন্দ, চোখে ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
পাহাড়ি জনপদের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কৃষিতে টেকসই অগ্রযাত্রার পথে ভাইবোনছড়ার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি উজ্জ্বল মাইলফলক হয়ে থাকবে।

এ সময় করলিয়া প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার পরিচিতা খীসা,ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুজন চাকমা-সহ করলিয়া প্রকল্পের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।