
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা।
বান্দরবানের লামা উপজেলায় বন্যহাতি ও মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব কমাতে সচেতনতামূলক প্রচারণা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা বন্যহাতি করিডোরের ঠান্ডাঝিরি পাড়ায় এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
“বন্যহাতির চলাচল এলাকায় মানুষ ও বন্যহাতির মধ্যকার দ্বন্দ্ব হ্রাসে সচেতনতামূলক প্রচারণা অভিযান” শীর্ষক এই কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ছিল—“সংঘাত নয়, সহাবস্থান চাই—মানুষ ও হাতির বন্ধন গড়ি”। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্পের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামা বন বিভাগের ইয়াংছা স্টেশন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি মানুষ-বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্বের কারণ, তা নিরসনে করণীয় এবং সতর্কতামূলক আচরণ সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেন।
ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের দলনেতা মানিক বন্যহাতির চলাচল এলাকায় নিরাপদ আচরণ, আবাসস্থল সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রকল্পের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অফিসার অংসাইন হাতির করিডোর সংরক্ষণের গুরুত্ব, জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার কার্যক্রম এবং সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লামা উপজেলা বায়োডাইভারসিটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটেটর রুবেল কবির।
কর্মসূচিতে স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকাবাসী অংশ নেন। রঙিন পোস্টার প্রদর্শন, লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে বন্যহাতির আবাসস্থল রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। পাশাপাশি ফাঁসিয়াখালী নেচার টিম আশপাশের পাড়া ও বাজার এলাকায় প্রচারণা চালায়।
আয়োজকরা জানান, মোট ৯৪ জন স্থানীয় বাসিন্দা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ৪৩ জন নারী ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা তাদের কৃষিজমি ও বাগানে বন্যহাতি সংক্রান্ত অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।
শেষে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে মানুষ ও বন্যহাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।