
আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রামু সেক্টরের অধীনস্থ নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠান, কেক কাটা ও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বিজিবি রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমদ, পিবিজিএম। এ সময় তিনি ১১ বিজিবির দীর্ঘদিনের গৌরবময় ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও সীমান্ত সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএমএস কফিল উদ্দিন কায়েস-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক, রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক, নাইক্ষ্যংছড়ি ১১ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর আশীক সহকারি পরিচালক এডি আল আমীন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বাতেন মৃধা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমদ বলেন,
“কঠিন মনোবল, শৃঙ্খলা ও সীমাহীন ধৈর্যের মাধ্যমে ১১ বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধ, পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বদা দায়িত্বশীল ও সক্রিয় থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির সদস্যরা যে ত্যাগ ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ব্যাটালিয়নের প্রয়াত শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফসহ বিজিবির ৭৯ জন শহীদ সদস্যের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথি ও সদস্যদের অংশগ্রহণে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে, যা ১১ বিজিবির ঐতিহ্য ও পেশাদারিত্বের প্রতিচ্ছবি হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।