বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নজরুল বর্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ মহালছড়ি সেনাবাহিনী জোনের উদ্যোগে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুসবাতিতে আলোকিত রাতের আকাশ; পাহাড়ে বইছে উৎসবের আমেজ শান্তিনগর একতা ক্লাবের উদ্যোগে নাইট মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন নানিয়ারচরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত প্রয়াণের ১৮ বছরেও জন্মস্থানে নির্মিত হয়নি রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথেরোর ভাস্কর্য, বৌদ্ধ সমাজে ক্ষোভ লামায় হঠাৎ বজ্রপাতে শিশুসহ নিহত ২, আহত ২ নানিয়ারচরে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ১৬ নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণ দীঘিনালায় কঠিন চীবর দানোৎসব ঘিরে বিজিবির নিরাপত্তা সভা, বিহারগুলোতে অনুদান রাঙামাটির বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহারে ২৬তম শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব সম্পন্ন যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে বাঁচাতে প্রশাসন ও ক্রীড়া সংস্থার ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ রাজস্থলীতে বন্য শুকরের আক্রমণে জুমচাষি নিহত খাগড়াছড়িতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন সাজেকের পরিস্থিতি নিয়ে হেডম্যান-কারবারীদের সঙ্গে প্রশাসনের মতবিনিময় আলীকদমে ছুটির মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালু রেখেছেন শিক্ষকরা হিমছড়ি ঢালায় ডাকাতি: এসআরবি-১৫-এর অভিযানে গ্রেপ্তার ১

বন্যপ্রাণী রক্ষায় মানবিক দৃষ্টান্ত নবদ্বীপ চাকমার

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।

খাগড়াছড়িতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নবদ্বীপ চাকমা। দীর্ঘদিন পরম মমতা ও দায়িত্ববোধে লালন-পালন করা একটি বিলুপ্তপ্রায় এশিয়ান ব্ল্যাক বিয়ার, ছয়টি হরিণ ও দুইটি বানর স্বেচ্ছায় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বন্যপ্রাণী তুলে দেওয়া হয়। এ সময় ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রতিনিধি নূর জাহান উপস্থিত ছিলেন। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও জেলা বিএনপির নেতা অনিমেষ চাকমার উদ্যোগে পুরো হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

নবদ্বীপ চাকমা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় বেড়ে ওঠেন। একসময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে স্থানীয় ঠিকাদারি পেশায় যুক্ত। তবে পরিচয়ের বাইরে তাঁর মানবিক চেতনা ও প্রকৃতিপ্রেমই এই উদ্যোগের মূল প্রেরণা। ছোটবেলা থেকেই তিনি হাটে-বাজারে হরিণের মাংস বিক্রি ও নির্বিচারে বন ও বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করে আসছেন।

বুদ্ধের নীতিবাক্য ‘জীবহত্যা মহাপাপ’—এই দর্শনকে ধারণ করে আহত ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষায় এগিয়ে আসেন তিনি। নবদ্বীপ চাকমা জানান, আহত অবস্থায় বন থেকে ভালুকটিকে উদ্ধার করেছিলেন। অসুস্থ বানর দু’টিরও তিনি চিকিৎসা ও পরিচর্যা করেন। আর হরিণগুলো ছোট বয়স থেকেই নিজ দায়িত্বে লালন-পালন করে আসছিলেন।

তিনি বলেন, “অনেক দিন ধরেই প্রাণীগুলোকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে চাচ্ছিলাম। উপযুক্ত মাধ্যম না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছিল না। অনিমেষ চাকমার সহযোগিতায় অবশেষে নিরাপদ ঠিকানা নিশ্চিত করতে পেরেছি—এতে সত্যিই ভালো লাগছে।”

খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, “বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নবদ্বীপ চাকমার মতো সচেতন মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।” তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো দ্রুত ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে স্থানান্তর করে নিরাপদ পরিবেশে রাখা হবে।

প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ যখন নানা সংকটে, তখন নবদ্বীপ চাকমার এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ মানবতা, দায়িত্ববোধ ও প্রকৃতিপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *