
দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙ্গামাটি।।
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রয়াত কৃতি সন্তান সুবিমল দেওয়ানের স্মৃতি ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে রাঙামাটিতে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘সুবিমল দেওয়ান স্মৃতি ফাউন্ডেশন’। এ উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মায়ানী হলে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মৈত্রী চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা দীপন দেওয়ান, রাঙামাটি রিজিয়ন ও ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেডের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক এবং রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল রকিব। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সুবিমল দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এলাকার উন্নয়নে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর জীবন, কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ফাউন্ডেশনটি ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তারা আরও বলেন, পাহাড়ের শিশু-কিশোরদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এসব আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির নানা দিক তুলে ধরার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে কৃতী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া দৈনিক গিরিদর্পণ পত্রিকার প্রয়াত সম্পাদক এ কে এম মকসুদ আহম্মেদকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।
আয়োজকেরা জানান, সুবিমল দেওয়ানের জীবন ও কর্মকে কেন্দ্র করে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে ফাউন্ডেশনের। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের নতুন প্রজন্মের মধ্যে সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির চর্চা উৎসাহিত করতে চান তাঁরা।