
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের লামা উপজেলায় প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দের খাদ্যশস্য না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সরই ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সাতটি বৌদ্ধ বিহারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের তালিকায় তঞ্চঙ্গ্যা ও ম্রো সম্প্রদায়ের বিহারও রয়েছে। এ ঘটনায় তালিকা প্রণয়ন ও বরাদ্দ বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঢেঁকিছড়া পাড়ায় অবস্থিত উপসংঘরাজ শাসন স্তম্ভ ধর্মপ্রিয় সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারের পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাইং প্রে ম্রো জানান, এ বছর প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে তাঁদের বিহারের জন্য কোনো সরকারি সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিহারটির নাম বরাদ্দের তালিকায় নেই বলে জানানো হয়।
বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক লেং রিং ম্রো বলেন, বিহারটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবছর প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে ৫০০ কেজি খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হতো। তবে এবার তা পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করে তাঁরা জানতে পারেন, সরই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের পাঠানো তালিকায় বিহারটির নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক উঃ নন্দ মালা থের জানান, লামা উপজেলায় মোট ৭৯টি বৌদ্ধ বিহার রয়েছে। এর মধ্যে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের পাঁচটি ও সরই ইউনিয়নের দুটি বিহার এবার সরকারি খাদ্যশস্য পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তালিকায় বৌদ্ধ বিহারের নাম থাকা সত্ত্বেও বরাদ্দের খাদ্যশস্য সংশ্লিষ্ট বিহারের পরিবর্তে ক্রামা ধর্মের বিহারে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ১৪ অক্টোবর লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এ উপলক্ষে সরকারি সহায়তা বিতরণে কোনো বিহার বাদ পড়লে তার কারণ নির্ধারণ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। তালিকা প্রণয়নে অবহেলা, তথ্যগত ত্রুটি কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বরাদ্দ বণ্টনের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।