
বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:
পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বোরো ধান কাটার ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। ভালো ফলনের আশা থাকলেও আবহাওয়া, উৎপাদন খরচ ও বাজারমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না তাদের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে এবং ফলনও সন্তোষজনক। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জন সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি অফিসার নুর আলম বলেন, “এ বছর বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে এই সময় ঝড় বা অতিবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনায় কৃষকদের ৮০ ভাগ ধান পেকে গেলে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে ধান ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি কিংবা শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, এই সময়ে বৈরী আবহাওয়া দেখা দিলে মাঠের পাকা ধান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
কৃষকরা জানান, শুধু আবহাওয়াই নয়—উৎপাদন খরচও এ বছর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেচ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে প্রতি বিঘায় খরচ অনেক বেড়েছে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম সেই তুলনায় না বাড়ায় লাভ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি ধান ক্রয় কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে চাষাবাদে আগ্রহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
মাঠে এখন সোনালি ফসলের হাসি থাকলেও, সেই হাসি ধরে রাখতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।