শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দীঘিনালায় পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রা পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের আয়কর মওকুফ ও ব্যাংক ঋণ চালুর দাবি বাঘাইছড়িতে ২০ পিস ইয়াবাসহ একজন আটক নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ৪৪০১ কেজি সার জব্দ ‘তারেক রহমান যেন আরেকটি হাসিনা না হন’: লামায় মামুনুল হক বাঘাইছড়িতে কাচালং নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু দুর্গম পাহাড়ি জনপদে নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়াচ্ছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, রাঙ্গুনিয়ায় তিন হোটেলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বাঘাইছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারকে জেলা প্রশাসনের সহায়তা আকস্মিক বিলাইছড়ি উপজেলা পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী কাপ্তাইয়ের চিৎমরম মুসলিম পাড়ায় ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল বান্দরবানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী, কৃষকদের পাওয়ার টিলার ও নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ পার্বত্যাঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে- ব্যারিস্টার মীর হেলাল এমপি লংগদুতে যৌথ অভিযানে ৯ জন আটক, পাঁচজনের রোহিঙ্গা পরিচয় স্বীকার বান্দরবানে পার্বত্য মন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা: শান্তি-সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে সমন্বয়ের তাগিদ মাটিরাঙ্গায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী

ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে নিহত তিন পাহাড়ির শেষকৃত্য সম্পন্ন

Reporter Name

আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সংবাদদাতা।।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সীমান্তবর্তী ঘুমধুম এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে নিহত তিন বাংলাদেশি পাহাড়ি নাগরিকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়াপাড়া বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের মরদেহ সৎকার করা হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

নিহতরা হলেন— লেয়ারা চাকমা (৪১), অংকেমং চাকমা (৫০) এবং চিংকা অং চাকমা (৪০)। তারা সবাই ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, রোববার (২৪ মে) সকালে সীমান্তের শূন্য লাইনের কাছাকাছি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, জীবিকার তাগিদে নিজেদের কলাবাগানে কাজ করতে গিয়ে তারা অসাবধানতাবশত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) রেজুপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৪১ ও ৪২-এর মধ্যবর্তী শূন্য লাইনের কাছে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মাইন থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, “অসচেতনভাবে সীমান্তের শূন্য লাইনে যাতায়াত করলে যেকোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই স্থানীয় জনগণকে অপ্রয়োজনে সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী জনপদে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক সভা, মাইকিং ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে বনাঞ্চল ও দুর্গম সীমান্ত এলাকায় না যাওয়ার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে।

ভদন্ত জ্যোতি স্মৃতি ভিক্ষু বলেন, জীবিকার প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অনেকেই সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে কলাবাগান পরিচর্যা, জ্বালানি কাঠ ও বনজ সম্পদ সংগ্রহে যান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি ও মাইন আতঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগও বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

নিহত চোপোচিং চাকমার মেয়ে ও বান্দরবান সরকারি কলেজ-এর শিক্ষার্থী লিপি চাকমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার পড়াশোনা হয়তো আর চালিয়ে যেতে পারব না। ছোট ভাই-বোনদের দায়িত্ব এখন কে নেবে?”

এ ঘটনায় সীমান্তজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভালুকিয়াপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় নিহতদের পরিবার-পরিজনের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিতকরণ এবং সাধারণ মানুষকে কার্যকরভাবে সতর্ক করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *