
বশির আহম্মদ, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে পাহাড়ের কৃষকদের। পার্বত্য জেলা বান্দরবানে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক মানের প্রথম কোল্ড স্টোরেজ, যা কৃষিপণ্য সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে বান্দরবান জেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় ৫০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন দুই চেম্বার বিশিষ্ট এ কোল্ড স্টোরেজ প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য অংশ নষ্ট হয়ে যায়। এ সমস্যা সমাধানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড-এর বাস্তবায়নে তিন পার্বত্য জেলায় কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বান্দরবানের এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটি ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে জেনারেটর রুম, মেশিন রুম, সিঁড়ি নির্মাণসহ গুরুত্বপূর্ণ সিভিল কাজ শেষ হয়েছে। প্রি-কুলিং ও কুলিং চেম্বারে স্যান্ডউইচ প্যানেল স্থাপনও সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে টাইলস, রং এবং যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পূর্বে অব্যবহৃত একটি ভবনকে কোল্ড স্টোরেজে রূপান্তর করা হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে ছিল। এখন তা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে কৃষকবান্ধব প্রকল্পে রূপ নিয়েছে। এতে কৃষিপণ্যের অপচয় কমার পাশাপাশি বোর্ডের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ জানায়, ই-জিপি পদ্ধতিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকল্প সম্পর্কে আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”
কৃষকেরা জানান, আগে মৌসুমে উৎপাদন বেশি হলে কম দামে বিক্রি করতে হতো, অনেক সময় ফসল নষ্ট হয়ে যেত। কোল্ড স্টোরেজ চালু হলে তারা এখন ফসল সংরক্ষণ করে বাজার দর অনুযায়ী বিক্রি করতে পারবেন। স্থানীয় কৃষক ভান থাম বম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এই কোল্ড স্টোরেজ চালু হলে আমরা অনেক লাভবান হব।” প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুনে সম্পন্ন হলে বান্দরবানের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।