
প্রদীপ চৌধুরী, খাগড়াছড়ি।।
পার্বত্য তিন জেলায় অস্বচ্ছল চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় পাঁচ বছর মেয়াদি একটি উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম লায়ন চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। এ উদ্যোগের আওতায় প্রতি মাসে একটি করে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প আয়োজনের পাশাপাশি বাছাইকৃত রোগীদের বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করা হবে। গুরুতর রোগীদের স্বল্প খরচে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।
এ লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলার তিনটি ডায়াবেটিক সমিতির সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) খাগড়াছড়ি জেলা শহরের ডায়াবেটিক সমিতির অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রথম ফ্রি আই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও দুই শতাধিক রোগী সেবা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৬৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিম্বিসার খীসা জানান, পর্যায়ক্রমে পাহাড়ের প্রতিটি উপজেলায় ঘুর্নায়মান পদ্ধতিতে ক্যাম্প আয়োজন করা হবে। অপারেশনযোগ্য রোগীদের চট্টগ্রামে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শেষে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, যার সব ব্যয় বহন করবে লায়ন্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ক্যাম্পে আসা রোগীরা জানান, দীর্ঘদিন অর্থাভাবে চিকিৎসা নিতে না পারলেও এই উদ্যোগের ফলে তারা বিনামূল্যে সেবা পাচ্ছেন।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন খাগড়াছড়ি চক্ষু সেবা সংগঠন-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দরিদ্র রোগীদের সহায়তায় দুই লাখ টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসক ডা. অনুতোষ চাকমার নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবীরা এ কার্যক্রমে যুক্ত আছেন।
হাসপাতালটির স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানার ও অপারেশন ম্যানেজার রুবি পিনেরু বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই চক্ষু চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। এ বাস্তবতায় সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ির ক্যাম্পে হাসপাতালের নবীন ও প্রবীণ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত ১০ সদস্যের একটি দল দিনব্যাপী চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।