
মো. জয়নাল আবেদীন, আলীকদম।
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় হাম ও রুবেলা রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে ১০টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত তিনি আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহীন চৌধুরী এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) বান্দরবানের সিনিয়র কর্মকর্তা ডা. মো. ইশতিয়াক,আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদ হানিফ।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু হানিফের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল সহকারী, ইপিআই কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন,বর্তমানে সারা দেশের মতো আলীকদমেও হাম ও রুবেলা রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। দূর্গম কুরুকপাতা এলাকায় হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কুরুকপাতা বাজারে অস্থায়ী স্বাস্থ্য ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিদিন একটি মেডিকেল টিম বেইজ ক্যাম্প চলবে ও আশপাশের পাড়াগুলোতে চিকিৎসাসেবা প্রদান করবে। আগামীতে কুরুকপাতা ইউনিয়নে স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা কমিউনিটি ক্লিনিক স্হাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ করা হবে। একইসঙ্গে হাসপাতালের জন্য জমি দান করায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালামের মরহুম পিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহীন চৌধুরী এবং বান্দরবান জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম।
আলোচনা সভা শেষে বিভাগীয় পরিচালক পাহাড়ি এলাকার স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। এ সময় আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ হাসানের নেতৃত্বে দুইজন চিকিৎসক, তিনজন নার্স ও একজন মেডিকেল সহকারী নিয়ে একটি মেডিকেল টিম কুরুকপাতা বাজারে স্থাপিত অস্থায়ী স্বাস্থ্য ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা দিতে রওনা হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের এমন তৎপরতায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।