
উদ্বোধনের পর দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এবং খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম পর্যায়ে পাঁচ কিলোমিটার খাল খননের কাজে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে ৪৭৬ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন।
পরে যোগ্যাছোলা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজী মাসুদুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়া, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান হাবিব এবং যোগ্যাছোলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন সরকার।
এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক মিয়া মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রব রাজা, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি মো. কামাল হোসেন, মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির আওতায় হালদা নদীর উজানে মানিকছড়ি-রামগড় সীমান্তবর্তী ভরাট হয়ে যাওয়া অংশ পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মানিকছড়ি উপজেলার সালদাপাড়া থেকে যোগ্যাছোলা বাজারের দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় খনন কাজ শুরু হয়েছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জলাধার সংরক্ষণ, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, মৎস্যচাষ সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বক্তব্যে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পরিবেশ ও কৃষিবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭-৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় এ এলাকায় খাল খনন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় ৪৮ বছর পর পুনরায় খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হলো।