
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কুরাং পাড়া ও কুরাং বাজার এলাকায় দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট সমাধান হয়েছে সৌরবিদ্যুৎচালিত পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে। স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের ফলে এখন নিয়মিতভাবে বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
রবিবার (৭ জুন) বিকেলে কুরাং পাড়া ও কুরাং বাজার এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সোলার প্যানেলভিত্তিক এই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা হয়। এতে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে।
স্থানীয় সরকার ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত টংকাবতী ইউনিয়নের এই দুটি এলাকায় সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। সমস্যার সমাধানে স্থানীয় সরকার বিভাগের থোক বরাদ্দ থেকে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সৌরবিদ্যুৎচালিত পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ ফুট গভীরতা থেকে সৌরচালিত মোটরের মাধ্যমে টংকাবতী খালের উজান অংশ থেকে পানি উত্তোলন করে পাহাড়ের ওপরে স্থাপিত সংরক্ষণাগারে সরবরাহ করা হচ্ছে। সেখান থেকে নিয়মিতভাবে কুরাং বাজার ও আশপাশের এলাকায় পানি বিতরণ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীর মধ্যে রয়েছে কুরাং বাজারের ৭৮টি দোকান এবং ৪০টিরও বেশি পরিবার। কুরাং বাজার টংকাবতী ইউনিয়নের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যা পার্শ্ববর্তী রুমা উপজেলার গ্যালেংগ্যা ইউনিয়ন, লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের কাপ্রু পাড়া এবং গজালিয়া ইউনিয়নের ডলা পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পানির অভাবে বিশেষ করে নারীদের পাহাড়ি ঢাল বেয়ে দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। নতুন এই প্রকল্প চালুর ফলে সেই দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হয়েছে।
কুরাং বাজার কমিটির সভাপতি মেন চা ম্রো বলেন, “আগে নারীদের দেড় হাজার ফুট নিচ থেকে পানি সংগ্রহ করতে হতো। এতে পুরো দিনই ব্যয় হয়ে যেত। এখন বাড়ির কাছেই পানি পাওয়া যাচ্ছে, এতে সবাই স্বস্তিতে আছেন।”
টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাংয়াং ম্রো প্রদীপ বলেন, “দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে স্থানীয় সরকারের বরাদ্দে এই সৌরচালিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে এলাকাবাসীর ভোগান্তি অনেকাংশে কমেছে।”
স্থানীয়রা আশা করছেন, সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে এই প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদে এলাকার সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।