
কাপ্তাই প্রতিনিধি:
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। কাপ্তাইয়ের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি উপজেলা থেকেও রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। গত সাত দিনে এই হাসপাতালে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে একজন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত সাত দিনে চিকিৎসা নেওয়া ২৫ রোগীর মধ্যে ১৩ জন নারী, ১০ জন পুরুষ ও ২ জন শিশু। এ পর্যন্ত ৪৪৯ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৫ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হননি। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি।
ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট রয়েছে। পাশাপাশি কিছু স্যালাইন, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতিও রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ডেঙ্গু রোগীর পাশাপাশি অন্যান্য রোগীর চাপ থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালাতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুইহ্লা অং মারমা বলেন, গত মাসের তুলনায় বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। কাপ্তাইয়ের পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়া, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি থেকেও রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে মশারি ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতিমধ্যে তিন মাসব্যাপী প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতি শনিবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
চিৎমরম বাজার ঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. খলিল (৩৮) বর্তমানে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার ডেঙ্গু পজিটিভ। আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছি। এখানে চিকিৎসার মান ভালো।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৫০টি শয্যা রয়েছে। কোনো রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বাড়িঘর ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম চালানো গেলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।