
*প্রেস বিজ্ঞপ্তি*
পার্বত্য চট্টগ্রামে কায়েমি স্বার্থ হাসিলে সক্রিয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ও নির্মূল করার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সরকারি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পাহাড়কে সন্ত্রাসমুক্ত করতে সেনাবাহিনী ও যৌথ বাহিনীর বিশেষ চিরুনি অভিযানের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ পিসিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এসব দাবি জানান।
পিসিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রাসেল মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি মিজান উদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা কর্নেল হাসিনুর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য শেখ আহমেদ রাজু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিসিসিপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রকৌশলী শাহাদাৎ ফরাজী শাকিব, স্টুডেন্ট ফর সোভারেন্টির আহ্বায়ক জিয়াউল হক, পিসিসিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েশ, জনজোট বিপ্লবী মঞ্চের মুখপাত্র মুজাম্মেল মিয়াজী, ইউনাইটেড ইয়ং ফোর্সের আহ্বায়ক ও ঢাবি শিক্ষার্থী মোঃ শাকিল মিয়া, ঢাবি শিক্ষার্থী সৌরভ ইসলাম, স্বাধীনতা সুরক্ষা মঞ্চের সদস্য সচিব সামসুদ্দিন এবং পিসিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান জাকিরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
’অস্ত্র জমা হয়নি, চুক্তির সুযোগে আধিপত্য বিস্তার’
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তিতে সকল অবৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার স্পষ্ট শর্ত থাকলেও বাস্তবে তা মেনে চলা হয়নি। পাহাড়ে আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ ও মন্ত্রণালয়ে একক আধিপত্য বজায় রাখা হয়েছে। কোটা সুবিধা এবং সরকারি অর্থ ব্যবহার করে অবৈধ অস্ত্র কিনে পাহাড়জুড়ে সন্ত্রাসী আধিপত্য ও ইউপিডিএফসহ আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর নৈরাজ্য থামছে না। তাই অনতিবিলম্বে এই ‘বৈষম্যমূলক পার্বত্য চুক্তি’ বাতিল করে সকল জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানান তারা।
সাজেকে অবরোধ প্রসঙ্গে অসন্তোষ সম্প্রতি সাজেকে তথাকথিত অবরোধের নামে পর্যটকদের জিম্মি ও হয়রানি করার কঠোর সমালোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, পূজার ছুটিতে যেখানে সাজেক ভ্রমণের সুবর্ণ সুযোগ, সেখানে সন্ত্রাসীরা অবরোধের নামে মানুষকে জিম্মি করছে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং পার্বত্য অঞ্চলের সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পিসিসিপির ৩ দফা দাবি:
১. সশস্ত্র সংগঠন নিষিদ্ধ: পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল অবৈধ ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ এবং দ্রুত নির্মূল করতে হবে।
২. সাজেকে অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান: সাজেকে
সকল প্রকার অবরোধ, সংঘাত, সহিংসতা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ যারা বিঘ্নিত করবে তাদেরকে কঠোর হস্তে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৩. চিরুনি অভিযান ও সেনা ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা: পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দমনে সেনা ও যৌথ বাহিনীর শক্তিশালী চিরুনি অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
সমাবেশ থেকে সার্বভৌম বাংলাদেশ ও পার্বত্যাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল সচেতন নাগরিক, ছাত্র-জনতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের একাত্মতা প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।