শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লামায় পাঁচ ইটভাটার বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়া বান্দরবানের লামাতে ২৪ বছর শিকলে বাঁধা হাতি ‘বাহাদুর’, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন মানিকছড়ির ধর্মঘরে তিনটি দোকান পুড়ে ছাই প্রায় ক্ষয়ক্ষতির ৭০ লক্ষাধিক কাপ্তাইয়ের চিৎমরম মুসলিম পাড়ায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ লামায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাঃ উইলিয়াম লুসাই মেমোরিয়াল হল উদ্বোধন মহিষখালী নিখোঁজ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ছাত্র জিফাত হাসানের সন্ধান চায় বাবা-মা পাহাড়ে সুপেয় পানি সংকট সমাধানে সরকারের উদ্যোগে হাসি ফুটেছে পাড়ায় পাড়ায় চ্যাম্পিয়নস লিগে কাপ্তাইয়ের জয় একটি ডিও লেটারের অভাবে আটকে আছে আলীকদম চৌকি আদালত গোমতিতে বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির পরিচিতি সভা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থাকার আহ্বান রাজস্থলীতে ঝুলন্ত সেতু, ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক সংঘ ও বাজার পরিদর্শন দুদকের মামলায় কারাগারে বান্দরবানের পিআইও, সাময়িক বরখাস্ত খাগড়াছড়িতে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‌্যালী ও আলোচনা বাঘাইছড়িতে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত পাকুয়াখালী গণহত্যা দিবস: ৩০ বছর পরও বিচারের দাবিতে স্বজনদের কর্মসূচি

বান্দরবানের লামাতে ২৪ বছর শিকলে বাঁধা হাতি ‘বাহাদুর’, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

Reporter Name

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম এলাকায় ‘বাহাদুর’ নামে একটি হাতিকে দীর্ঘদিন ধরে পায়ে লোহার শিকল বেঁধে গাছ টানার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ২৪ বছর ধরে শিকলবন্দি অবস্থায় থাকা হাতিটির পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসাসেবাও মিলছে না। একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি হাতিকে গাছ টানার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুর্গম ঘিলাপাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় হাতি ‘বাহাদুরকে’ দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, গহীন পাহাড় থেকে ভারী গাছ টানার কাজে হাতিটিকে নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। কাজ শেষে শিকল বাঁধা অবস্থায় আশপাশের লতাপাতা খাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

মাহুত সিফারের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, গাছ টানার কাজে হাতিটিকে দৈনিক ৬ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়। একেক দিন একেক স্থানে হাতিটিকে নেওয়া হয়। তার দাবি, হাতিটির মালিকের বাড়ি সিলেটে এবং লামায় গাছ টানার কাজে ব্যবহৃত হাতিগুলোর লাইসেন্স সিলেট বন বিভাগের অধীনে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, লামা উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় আরও অন্তত সাতটি হাতিকে একই ধরনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে সদর ইউনিয়নের ঘিলাপাড়ায় একটি, দোছড়ি এলাকায় দুটি, চিউনী খালের আগায় একটি, রূপসীপাড়া ইউনিয়নের লামা খালের আগায় দুটি এবং সরই ইউনিয়নের লেমুপালং ও লুলাইং এলাকায় দুটি হাতি রয়েছে বলে তারা জানান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, হাতি ব্যবহার করে বন থেকে বড় গাছ টেনে নেওয়া হচ্ছে। এতে বন ও পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি হাতিগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। এক বাসিন্দা জানান, গত বছর তাদের এলাকার কাছে একটি হাতি পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হলেও যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে পরে মারা যায়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে বন বিভাগ জানে কি না—এ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, হাতির মাধ্যমে গাছ পরিবহনের বিষয়টি বন্ধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফজুর রহমান বলেন, প্রায় দুই বছর আগে লামা সদর ইউনিয়ন থেকে একটি হাতি ও তার মাহুতকে আটক করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে হাতিটিকে কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলহাজারা সাফারি পার্কে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে হাতিগুলো কোথায় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *