
মো. ইসমাইলুল করিম, প্রতিনিধি:
পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন ইয়াংছা বদুরঝিরি সড়কে ২১ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মাণাধীন গাইড ওয়ালের একাংশ নির্মাণের কয়েক দিনের মধ্যেই ধসে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি কাজের ধীরগতি ও নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, ধসে পড়ার পর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এতে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ বাড়ছে। এমন দেখা যাচ্ছে শনিবার ১০ অক্টোবর সকালে সরকারি চুক্তির তথ্য অনুযায়ী, কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাংগু মোটরস। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী নিপুর কান্তি দাস। প্রকল্পটি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিট অফিসের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।সরকারি নথিতে প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য উল্লেখ রয়েছে ২১ লাখ ৪০ হাজার ৭৬৭ টাকা ৫ পয়সা। চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২০২৬ সালের ৪ জুন। কাজ শেষ করার নির্ধারিত তারিখ ২০২৭ সালের ৩০ জুন। প্রকল্পের মেয়াদ এখনো শেষ না হলেও নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছুদিন আগে সড়কটিতে গাইড ওয়াল ও আরসিসি আউটলেট ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তবে নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই গাইড ওয়ালের কিছু অংশ ধসে পড়ে। এতে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণের মান, নির্মাণপদ্ধতি ও প্রকৌশলগত তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।কী কারণে দেয়ালের অংশ ধসে পড়েছে, নির্মাণকাজে অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত মান অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষ কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, তদন্তে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ইয়াংছা–বদুরঝিরি সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ। সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, গাইড ওয়ালের অংশ ধসে পড়ার পর নির্মাণস্থলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে আর দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকিও তাঁদের চোখে পড়ছে না। তবে এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নিপুর কান্তি দাস এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে ধসে পড়া অংশের কারিগরি পরীক্ষা, নির্মাণকাজের মান যাচাই এবং প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।স্থানীয়দের প্রশ্ন, ২১ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ের একটি প্রকল্পে নির্মিত গাইড ওয়ালের অংশ অল্প সময়ের মধ্যে ধসে পড়ার কারণ কী এবং কাজের মান যাচাই ও তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল?জনগণের অর্থে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের নির্মাণকাজের মান ও ধসে পড়ার কারণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দাবী জানান।