
দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙামাটি প্রতিনিধি
শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। কাপ্তাই হ্রদের নীল জল, পাহাড় আর সবুজ প্রকৃতির টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ছুটে আসছেন রাঙামাটিতে। শহরের হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে বেড়েছে বুকিংয়ের চাপ।
জেলা প্রশাসন ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ছুটির এই সময়ে রাঙামাটির প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের উপস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৩-৪ গুণ বেড়েছে।
রাঙামাটির ডিসি বাংলো রোডে কাপ্তাই লেকের তীরে অবস্থিত পলওয়েল পার্ক এখন অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, লেকের নীল জলরাশি এবং বিভিন্ন রাইড উপভোগ করতে প্রতিদিন এখানে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকরা।
পার্কের মূল আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- হিলভিউ পয়েন্ট ও লাভ লক পয়েন্ট থেকে লেকের অপূর্ব দৃশ্য, কায়াকিং, জেট স্কিইং ও প্যাডেল বোটের মতো ওয়াটার স্পোর্টস, শিশুদের জন্য মিনি ট্রেন, মেরি গো রাউন্ড, হানি সুইং এবং মিনি চিড়িয়াখানা। এছাড়াও রয়েছে সুইমিংপুল, কৃত্রিম ঝর্ণা, ঢেঁকি শিল্প প্রদর্শনী, ক্যাফেটেরিয়া ও রাত্রীযাপনের জন্য আধুনিক কটেজ।
পলওয়েল পার্কের পাশাপাশি রাঙামাটির আইকনিক ঝুলন্ত সেতু, রাজবন বিহার, আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট, কাপ্তাই লেক, শুভলং ঝর্ণা ও সাজেকগামী পর্যটকদেরও ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ঝুলন্ত সেতুতে দাঁড়িয়ে কাপ্তাই লেকের সৌন্দর্য উপভোগ, রাজবন বিহারে পুণ্যার্থীদের প্রার্থনা এবং আরণ্যকের সবুজ পাহাড়ে সময় কাটাতে ব্যস্ত পর্যটকরা। অনেক পর্যটক সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নৌকা ভাড়া করে লেকের বিভিন্ন দ্বীপ ঘুরে দেখছেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক বলেন, “পূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে রাঙামাটি এসেছি। পলওয়েল পার্কের লাভ লক পয়েন্ট আর ঝুলন্ত সেতুর সৌন্দর্য অসাধারণ। ভিড় থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো।”
পলওয়েল পার্কের উপ ব্যবস্থাপক শাহাদাত জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পার্কে বাড়তি নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ হাজার পর্যটক পার্কে আসছেন, যা ছুটির দিনে আরও বাড়ছে ।পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, টানা ছুটি ও সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় এবার রাঙামাটিতে পর্যটকের আগমন বেড়েছে। এতে স্থানীয় হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বোট ও পরিবহন খাত চাঙা হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন এবং লেকের নৌযানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।