
বশির আহমেদ, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম ডলুছড়ি বাজার থেকে লুলায়িং বাজার পর্যন্ত সড়কের ৩ কিলোমিটার পুনর্বাসন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন অবহেলিত ও দুর্ভোগে থাকা পাহাড়ি এই সড়ক উন্নয়নের ফলে স্থানীয় মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), বান্দরবানের বাস্তবায়নে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে এ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির নাম “ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্প”। প্রকল্পের আওতায় দুর্গম এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমিয়ে আনা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে- এক সময় এই সড়কটি ছিল কাঁচা ও চলাচলের অনুপযোগী। বর্ষা মৌসুমে কাদা, ভাঙন ও জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাত। বিশেষ করে রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে দেখা দিত নানা প্রতিবন্ধকতা। স্থানীয় বাসিন্দা জাকির বলেন, আগে এই সড়ক দিয়ে মূলত চাঁদের গাড়ি ও মোটরসাইকেল ছাড়া অন্য যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব ছিল। রাস্তার অবস্থা খারাপ থাকায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় কাজেও মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি পোহাতে হতো। এখন রাস্তা উন্নয়ন হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা চিংমাই ম্রো জানান, সড়কটি পাকা হওয়ার ফলে এখন বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। এতে স্থানীয় মানুষের সময় ও খরচ দুটোই কমেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, দুর্গম এলাকার জনগণের জন্য নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। ডলুছড়ি–লুলায়িং সড়কের এই অংশের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হয়েছে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, পাহাড়ি এলাকায় সড়ক নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। কৃষকরা এখন সহজে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারছেন, ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এছাড়া দুর্গম এলাকার মানুষের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এলজিইডি টেকসই ও জনবান্ধব উন্নয়নের মাধ্যমে পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ৩ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসন কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে আরও ৯ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন হলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে এবং দুর্গম জনপদের মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে।
জানা গেছে, এই সড়ককে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় মুরুং, মারমা ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে তারা সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে নানা ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি ছিলেন। তবে সড়ক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় সড়ক উন্নয়ন শুধু যোগাযোগ নয়, বরং উন্নয়ন ও জীবনমান পরিবর্তনের অন্যতম বড় ভিত্তি। ডলুছড়ি–লুলায়িং সড়কের কাজ শেষ হলে এই অঞ্চলে উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।