
মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি।।
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির নেতারা। পরিদর্শনের সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলমের নেতৃত্বে উপজেলার তাইন্দং, তবলছড়ি, বড়নাল, বেলছড়ি ও আমতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান, সহসভাপতি ললিত বিকাশ ত্রিপুরা, প্রচার সম্পাদক সনি ত্রিপুরা, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন সরকার, সদস্যসচিব ফোরকান ইমামী, বড়নাল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব মো. জামাল উদ্দিন জালাল, তবলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক চৌধুরী লিটন, সদস্যসচিব হেলাল উদ্দিন, তাইন্দং ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক করম আলী মেম্বার, সদস্যসচিব তৌফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতিবৃষ্টির পর প্লাবিত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করলেও বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে তবলছড়ি খাদ্যগুদাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও ধস দেখা দেওয়ায় সড়কটি প্রায় যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের একাধিক স্থানে ভূমিধস ও রাস্তা দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম বলেন, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও গ্রামীণ সড়কগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নআয়ের অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁইয়ার নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর দ্রুত সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।