
স্টাফ রিপোর্টার।।
শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণে কার্যকর প্রকল্পগুলোর সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, অপুষ্ট শিশু কখনোই তার পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ অর্জন করতে পারে না। তাই সুস্থ ও সক্ষম ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে সরকার ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে।
সোমবার সকালে খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় জাবারাং কল্যাণ সমিতি আয়োজিত “Access to and Utilization of Lifesaving Services by Marginalized Communities in Chittagong Hill Tracts in Bangladesh” প্রকল্পের জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা, জনসংখ্যা এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রত্যেক মানুষের কাছে কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছে দেওয়া সবসময় সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল উন্নয়ন সংস্থাগুলো সরকারের সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সঠিক তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। বরাদ্দকৃত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হলে এ উদ্যোগ শিশু অপুষ্টি হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য রক্তোৎপল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিনিধি এস. এম. খালেদুল আহসান।
সভায় সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য দেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা। প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বিভিন্ন কার্যক্রম উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী বিনোদন ত্রিপুরা।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অংশীজন অংশ নেন। মুক্ত আলোচনায় বক্তারা প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত, পরামর্শ ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি জেলার ৯টি উপজেলায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খাদ্য ও জীবিকা সহায়তা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং কমিউনিটি পর্যায়ে পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।