রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খাগড়াছড়িতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান দীঘিনালায় বন্যাদুর্গত ৩০০ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন এমপি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া পানছড়িতে বন্যাদুর্গত ৯০ পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ ঈদগাঁওয়ে বন্যাদুর্গত ২,৪২৬ সদস্যকে ২৪ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কলেজছাত্রীকে শিক্ষা সামগ্রী ও পোশাক উপহার বান্দরবানে গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় সেনা রিজিয়নের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাঘাইছড়িতে বিজিবির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বিতরণ ২৮ হাজার ৯০০ চারা লামায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ শুরু খাগড়াছড়ি সেনা জোনের উদ্যোগে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে ২ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ যৌতুক ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবার থেকেই পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে; পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী বান্দরবানে হামে আক্রান্ত দুই শিশু জানে না, তাদের মা আর বেঁচে নেই বান্দরবান সদর হাসপাতাল এলাকায় জেলা বিএনপির পরিচ্ছন্নতা অভিযান খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ৩৫ হাজার বৃক্ষের চারা বিতরণ মাটিরাঙ্গায় দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা বাঘাইছড়িতে বন্যাদুর্গত ৯০ পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ পানছড়িতে বিনামূল্যে চর্ম ও এলার্জি চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন ১০০ রোগী

খাগড়াছড়িতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

Reporter Name

স্টাফ রিপোর্টার।।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং সেবার ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদের সেমিনার কক্ষে জাবারাং কল্যাণ সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয়, তথ্য বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

“Access to and Utilization of Lifesaving Services by Marginalized Communities in Chittagong Hill Tracts in Bangladesh” শীর্ষক প্রকল্পটি হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় খাগড়াছড়ি জেলার নয়টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করছে জাবারাং কল্যাণ সমিতি।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া সুলতানা বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে সরকারি দপ্তর, বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর অংশীদারিত্ব জোরদার হলে টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা। শুরুতে প্রকল্প পরিচালক বিনোদন ত্রিপুরা প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেন।

দীঘিনালা উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মিহির কান্তি ত্রিপুরার সঞ্চালনায় পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় প্রকল্পের কার্যক্রম, বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরা হয়। এ সময় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর নির্নিতা খীসা পার্বত্য অঞ্চলে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে সংস্থাটির দীর্ঘদিনের কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সভায় প্রকল্প পরিচালক বিনোদন ত্রিপুরা জানান, জিপিএস-ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় দুই মাসে খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪৭ হাজার ৯২২ শিশুর মিড-আপার আর্ম সার্কামফারেন্স (MUAC) স্ক্রিনিং সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অপুষ্টির ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের শনাক্ত করে স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, কোনো শিশু এখনো এই স্ক্রিনিং কার্যক্রমের বাইরে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি অবহিত করার অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে তাদেরও সেবার আওতায় আনা যায়।

সভায় অংশ নেওয়া সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও উন্নয়নকর্মীরা প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত MUAC স্ক্রিনিং, তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া এবং দুর্গম এলাকায় কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন। তাঁরা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূসরাত জাবীন, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুস্মিতা খীসা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভেটেরিনারি সার্জন) ডা. ওমর ফারুক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নিটু দেওয়ান, ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুজন চাকমা, হেডম্যান জ্ঞানলাল দেওয়ান ও উক্যসাইন চৌধুরীসহ সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, হেডম্যান, কার্বারি এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পটি পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *