
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতভর বৃষ্টির কারণে জেলা শহরের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে বান্দরবান-কেরানীহাট ও বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজঘাট সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
গত কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জেলায় পাহাড়ধসে পাঁচজন এবং পানিতে ভেসে এক শিশুসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বান্দরবান-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দেশের অন্যান্য এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পাহাড়ধস ও সড়কে প্রতিবন্ধকতার কারণে রুমা, থানচি, আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়িসহ কয়েকটি উপজেলার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবায় বিঘ্ন ঘটায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে।
প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও জরুরি ওষুধের সংকটে পড়েছেন। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে কাজ করছে প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিভিন্ন সংস্থা।
বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।