রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রাইভেট পড়তে গিয়ে সাবেক ইউপি সদস্যের মেয়ে নিখোঁজ; থানায় জিডি রাজস্থলীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জলবায়ু ঘোষণা উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অপরাধ দমন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ৩২ বিজিবি খাগড়াছড়ি ব্যাটালিয়নের সীমান্তে অপারেশনাল বেস স্থাপন নওমুসলিম ছেলে-মেয়েদের অপহরণ করে ঋষি আশ্রমে নির্যাতন করার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে রাঙামাটিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎযাপন খাগড়াছড়িতে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের মিলনমেলা, তরুণদের সৃজনশীল ভাবনায় ভবিষ্যতের স্বপ্ন গুম-অপহরণের ‘নাটক’ ও অপপ্রচারের অভিযোগে কাচালং সরকারি কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুর্গম এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরণ বান্দরবান এলজিইডির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন বাঘাইছড়িতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন লামায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন “সবুজে গড়বো আগামীর বাংলাদেশ” খাগড়াছড়িতে শুরু হলো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি থানচিতে উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসব প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি; পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন খাগড়াছড়ি সদর এলজিইডি’র আয়োজনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন

খাগড়াছড়িতে জিএসি অর্থায়িত প্রকল্প পরিদর্শনে ইউএনএফপিএ এর উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং মিশন

Reporter Name

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়।।
পার্বত্যাঞ্চলের দুর্গম জনপদে মাতৃস্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বাস্তবায়িত জিএসি (গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা) অর্থায়িত প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শনে খাগড়াছড়ি সফর করেছেন ইউএনএফপিএর যৌথ উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং মিশন। এই সফরকে ঘিরে জেলার স্বাস্থ্যখাতে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতি, সেবার গুণগত মান এবং উপকারভোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে ইউএনএফপিএর প্রতিনিধি ক্যাথেরিন ব্রীন কামকং খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার ক্যায়াংঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। দুর্গম পাহাড়ি জনপদের নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রটির ভূমিকা, সেবার পরিবেশ এবং কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে তিনি ফিস্টুলা রোগী, ভায়া (VIA) সেবা গ্রহণকারী নারী, গর্ভবতী মা এবং অন্যান্য উপকারভোগীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মতবিনিময় করেন। তাদের অভিজ্ঞতা, চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুবিধা-অসুবিধা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানোর পথের দুর্ভোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। নারীদের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্থানীয় উপকারভোগীরা জানান, এ ধরনের প্রকল্প দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের নারীদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। বিশেষ করে মাতৃস্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং ফিস্টুলা প্রতিরোধে প্রকল্পটির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরে বিকেলে প্রতিনিধিদল খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতাল এবং মা ও শিশু কল্যাণ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, সেবা ইউনিট এবং চিকিৎসা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তারা। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসাসেবার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চান এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ, অবকাঠামো, জনবল, চিকিৎসা সুবিধা ও সেবার মান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদল স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টাকে তারা সাধুবাদ জানান।

এ সময় সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের চিফ অব হেলথ ভিভানেন্দ্র রঘুবংশী, চিফ অব কমিউনিকেশন গুলালেক সল্টানোভা, প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ও চিফ জেন্ডার শামীমা পারভীন, এসআরএইচআর প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট মো. শামসুজ্জামানসহ ইউএনএফপিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. মো. ছাবের, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক আব্দুল্লাহ,সিনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ডা. জয়া চাকমা,সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এসআরএইচআর কো-অর্ডিনেটর ডা. শ্রাবস্তী চাকমা, গ্রীণ হিলের জেলা সমন্বয়ক রুপান্ত চাকমা, ইউএনএফপিএ ফিস্টুলা প্রকল্পের জেলা সমন্বয়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিনিধিরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জিএসি অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্প পার্বত্য অঞ্চলের নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, নিরাপদ মাতৃত্ব, ফিস্টুলা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা, পরিবার পরিকল্পনা এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকার নারীদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রকল্পটি যুগান্তকারী অবদান রাখছে।

স্বাস্থ্যসেবাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন গতি আসবে এবং পার্বত্য অঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হবে।

খাগড়াছড়ির মতো দুর্গম পার্বত্য জেলায় নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সরকারি উদ্যোগ এবং স্থানীয় অংশীদারিত্বের এই সমন্বিত প্রয়াস নিঃসন্দেহে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *