
খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি।।
পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ ও যুবসমাজকে খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করা, ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের তুলে আনার লক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘গিরি মৈত্রী ফুটবল টুর্নামেন্ট’।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় খাগড়াছড়ি জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান।
এ সময় খাগড়াছড়ি জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আশরাফু কবির, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনকে ঘিরে জেলা স্টেডিয়ামে খেলোয়াড়, ক্রীড়াপ্রেমী ও দর্শকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় পার্বত্য ফুটবল একাডেমি ও খাগড়াছড়ি স্পোর্টস একাডেমি। শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচটি। প্রতিপক্ষের গোলমুখে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ধরে রাখে দুই দল। শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে খাগড়াছড়ি স্পোর্টস একাডেমিকে ২-১ গোলে পরাজিত করে পরবর্তী পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে পার্বত্য ফুটবল একাডেমি।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের টুর্নামেন্টে মোট ১২টি দল অংশ নিচ্ছে। পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ ফুটবলারদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতাটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
আয়োজকরা বলেন, পাহাড়ের তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে প্রতিভাবান ফুটবলারদের খুঁজে বের করে তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং যুবসমাজকে মাদক ও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেও এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
তাদের মতে, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি তরুণদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলের সম্ভাবনাময় তরুণদের ক্রীড়াক্ষেত্রে এগিয়ে নিতে এমন আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নতুন খেলোয়াড় উঠে আসার পাশাপাশি খাগড়াছড়ির ফুটবলে নতুন গতি সঞ্চার হবে,এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।