মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কাপ্তাইয়ে গ্রাম পুলিশের মাঝে বাইসাইকেল ও পোশাক সামগ্রী বিতরণ ঘর নেই, স্বজন নেই—জরাজীর্ণ যাত্রী ছাউনিতে ৭৫ বছরের অসুস্থ জহুরা পেরাছড়ায় কমিউনিটি এডুকেশন ওয়াচ গ্রুপের ত্রৈমাসিক সভা পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে রাজস্থলীর ‘বড় ঝর্ণা’ খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ে বেকারদের জন্য বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ নতুন দায়িত্ব পেয়েই দীঘিনালায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্যবৃন্দরা ঈদগাঁওতে মাদকের সরঞ্জামসহ ১২ মাদকসেবী আটক ঈদগাঁওতে অবৈধ টমটম, অটোরিক্সা ও মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে একশন শুরু রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত বিলাইছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণ পানছড়িতে বিজিবির উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সামগ্রী বিতরণ, অসহায়কে চিকিৎসা সহায়তা লামায় ৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি ৯২ রোগী, বন্ধ অ্যাম্বুলেন্স সেবা আকস্মিক বন্যায় দীঘিনালায় ২৫ ঘর বিধ্বস্ত, ঝুঁকিতে অর্ধশতাধিক। বিলাইছড়িতে লেপ্রসি মিশনের উদ্যোগে কুষ্ঠ রোগবিষয়ক কর্মশালা নানিয়ারচরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ে বেকারদের জন্য বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ

Reporter Name

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি।।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বেকার যুবক-যুবতী ও আগ্রহী স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী করে তুলতে খাগড়াছড়িতে বিনামূল্যে দুটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে খাগড়াছড়ি জোনের ব্যবস্থাপনায় এবং আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে খাগড়াছড়ি সদর সেনা জোনে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান। এ সময় আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শ্যামল আগষ্টিন রোজারিওসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য কর্মদক্ষতা অর্জনের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। দূরত্ব, প্রশিক্ষণকেন্দ্রের স্বল্পতা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক তরুণ-তরুণী কারিগরি প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের একটি কোর্সে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অপর কোর্সে মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ শনাক্তকরণ, ত্রুটি নির্ণয় ও মেরামতের ব্যবহারিক জ্ঞান দেওয়া হবে।

আয়োজকদের মতে, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করতে পারবেন। অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কেউ চাকরিতে যুক্ত হতে পারেন, আবার কেউ নিজ উদ্যোগে সেবা প্রদান বা ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এতে ব্যক্তিগত আয়ের পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কয়েকজন বলেন, দুর্গম এলাকায় বসবাসের কারণে দূরের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গিয়ে কারিগরি শিক্ষা নেওয়া তাদের জন্য কঠিন। নিজ এলাকায় বিনামূল্যে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন করতে চান তারা।

তারা আরও বলেন, প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়মিত চালু থাকলে বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মমুখী করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগও বাড়বে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ চাকরিতে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি অনেকে আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেবেন। এর ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বেকারত্ব হ্রাস এবং মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে এ উদ্যোগ।

দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে প্রশিক্ষণের সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার এ কার্যক্রমকে কর্মদক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বাড়াতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *