
মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা প্রতিনিধি।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাত্র তিন ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এতে পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি দ্রুত বেড়ে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। পানির তোড়ে অন্তত ২৫টি মাটির ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে আরও ৫০টির বেশি ঘর। এ ছাড়া ২০টির বেশি ঘরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। ঘরবাড়ি ও মালামাল হারিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন শতাধিক পরিবারের মানুষ।
শুক্রবার মধ্যরাতের টানা ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার জামতলী, সুধীর মেম্বারপাড়া, মায়াপাপাড়া, জামতলী বাঙালি পাড়ার নিম্নাঞ্চল ও জামতলী বাজারসংলগ্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে মাটির ঘরগুলো নরম হয়ে একের পর এক ধসে পড়ে। অনেক ঘরে পানি ঢুকে আসবাবপত্র, রান্নার সামগ্রী, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পানিতে ভেসে গেছে।
নদীর তীরে বসবাসকারী মিনাল চাকমার ঘরও পানির তোড়ে ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, “নদীর পারে আমাদের ঘর হওয়ায় সবার আগে পানি ঘরে ঢোকে। এবার পানি এতটাই বেড়েছিল যে ঘরের ওপর দিয়ে পানি চলে যায়। একপর্যায়ে পানির তোড়ে আমার ঘরটি ভেঙে পড়ে।
ঘর ও মালামাল হারিয়ে নিঃস্ব আমেনা বেগম বলেন, “শুক্রবার রাতের বৃষ্টিতে আমার সবকিছু পানিতে ভেসে গেছে। ভাত রান্না করে খাব, সেই পাতিলটাও নেই। জমিনে কাজ করে মেয়ের জন্য এক জোড়া কানের দুল বানিয়েছিলাম, সেটিও পানিতে ভেসে গেছে। এখন আমার কিছুই নেই।
ফাতেমা আক্তার বলেন, “ঘুম থেকে উঠে দেখি বাড়িতে পানি। এর মধ্যে বাড়ির এক কোণা ভেঙে গেছে। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
আফজাল হোসেন বলেন, “আমার ৪৮ বছরের জীবনে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখিনি। বন্যার পানিতে আমার ঘরের এক কোণা ধসে পড়েছে। এ ছাড়া প্রায় তিন একর কলাবাগান নষ্ট হয়ে গেছে।
বোয়ালখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইব্রাহিম হোসেন (কালু) বলেন, আমার এলাকায় প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক ঘর ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খুব কষ্টে আছে। সরকারের সুদৃষ্টি ও দ্রুত সহায়তা কামনা করছি।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, ইতিমধ্যে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানে বেশ কয়েকটি ঘর ও গুদামঘর ভেঙে পড়েছে, যা আমি দেখেছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে অতি দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টির পর পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, রান্নার সামগ্রী ও মূল্যবান জিনিসপত্র পানিতে ভেসে গেছে। কেউ কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার কেউ ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের পাশেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।
এদিকে, আকস্মিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেরই নিজেদের ঘর পুনর্নির্মাণের সামর্থ্য নেই। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে এসব পরিবার আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে জরুরি খাদ্য, নিরাপদ আশ্রয় এবং ঘর পুনর্নির্মাণে সহায়তা দেওয়া হোক।